দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা সংকট এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসার অভাব নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা রুটিন চেক-আপের জন্য বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের (এমপি) থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে, বিশেষ করে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র বা বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সব ধরনের আধুনিক সুবিধা থাকার পরও প্রায়শই জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা সাধারণ চেক-আপের জন্যও বিদেশমুখী হন। অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, শয্যা সংকট এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রান্তিক মানুষ সাধারণ চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

তৃণমূলের একাধিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, যে কর্মীরা রাজপথে দল ও নেতার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন, তাদের পরিবারের মা-বোনেরা অসুস্থ হলে স্থানীয় হাসপাতালে ন্যূনতম চিকিৎসাটুকুও পান না। অনেক সময় টাকার অভাবে কিংবা সঠিক চিকিৎসার অভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছেন। অথচ যাদের এই চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করার দায়িত্ব, সেই জনপ্রতিনিধিরাই সামান্য শারীরিক অসুস্থতায় পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ভিআইপিদের এই বিদেশমুখী প্রবণতা দেশের স্বাস্থ্য খাতের ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে জনপ্রতিনিধিদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *