ইতালির হিমশীতল বাতাসে এখন বিষাদের সুরের সঙ্গে প্রাপ্তির আনন্দ। কোর্টিনা কার্লিং স্টেডিয়ামে ‘ইতালিয়ান সোভেনিয়ার’ থিমের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক গেমসের। ৫৫টি দেশের ৬১১ জন অ্যাথলেটের অদম্য প্রাণের এই উৎসব কেবল একটি গেমস ছিল না, এটি ছিল এক মানবিক সংহতির অমর আখ্যান।

এবারের আসরটি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ছায়া যেমন ছিল, তেমনি ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যু নিয়ে জলঘোলা হয়েছে বিস্তর। ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম রাশিয়া ও বেলারুশকে প্যারা অলিম্পিকে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়, যার প্রতিবাদে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান বয়কট করেন ইউক্রেনীয় অ্যাথলেটরা। তবে সব বিতর্কের মাঝেও কামানের গর্জনের বিপরীতে মিলানো-কোর্টিনা দেখিয়ে দিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর অন্তর্ভুক্তির শক্তি।

মাঠের লড়াইয়ে যথারীতি দাপট দেখিয়েছে চীন; ৪৪টি পদক নিয়ে তালিকার শীর্ষে তারা। স্বাগতিক ইতালিও ১৬টি পদক নিয়ে নিজেদের মাটিতে গড়েছে নতুন ইতিহাস। এছাড়া প্রথমবারের মতো পদকের স্বাদ পেয়েছে ব্রাজিল ও লাটভিয়ার মতো দেশগুলো। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল কিশোরী সোফিয়া তানসেলা, যার স্বপ্নময় পারফরম্যান্স দর্শকদের এক মায়াবী পৃথিবীতে নিয়ে যায়।

বিদায়ের ঘণ্টা বাজতেই প্যারা অলিম্পিক পতাকা তুলে দেওয়া হলো পরবর্তী আয়োজক ফ্রান্সের হাতে। মিলানোর ‘আর্কো ডেলা পেস’-এ যখন অলিম্পিক শিখা নিভে যায়, তখন থেকেই শুরু হয় ‘ফ্রেঞ্চ আল্পস ২০৩০’-এর অপেক্ষা। শিখা নিভেছে ঠিকই, তবে রেখে গেছে প্রতিবন্ধকতা জয় করা একঝাঁক অদম্য প্রাণের অনুপ্রেরণা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *