রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত বিকাশ, ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন-বিধিমালাকে আরও শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইন ও ১৯৫৩ সালের টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট পর্যালোচনার লক্ষ্যে সরকার ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
​অদ্য ২৯ জুলাই ২০২৬ (বুধবার) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
​কমিটির গঠন ও শীর্ষ নেতৃত্ব
​জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গঠিত এই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কমিটির অপর দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন:
১.⁠ ⁠মাননীয় মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২.⁠ ⁠মাননীয় মন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
​কমিটির মূল লক্ষ্য ও কার্যপরিধি
​প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগরে ইমারত বিধিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোকে সময়োপযোগী ও আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই লক্ষ্যে গঠিত কমিটি নিম্নলিখিত দায়িত্বসমূহ পালন করবে:
​আইন পর্যালোচনা: ‘The Building Construction Act, 1952’ এবং ‘The Town Improvement Act, 1953’ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও সময়োপযোগী সুপারিশ প্রণয়ন করা।
​বিধিমালা কার্যকরকরণ: বিদ্যমান আইন দুটির আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যেন মাঠপর্যায়ে শতভাগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি।
​সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও সভা: কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজন মনে করলে কমিটি নতুন সদস্য কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে এবং কাজের অগ্রাধিকার অনুযায়ী সভা আহ্বান করবে।
​সচিবালয় ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
​উক্ত কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির প্রণীত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার চূড়ান্ত সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুত করে পরবর্তী অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
​বিশেষ মূল্যায়ন
​অর্ধশতকেরও পুরোনো আইনসমূহ আধুনিক ঢাকা গঠনের পথে যে জটিলতা তৈরি করছিল, তা নিরসনে সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা। সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি আইনের ফাঁকফোকর দূর করে রাজউকের কাজের গতি বৃদ্ধি ও নগরীতে আইনি শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *