রাজধানীর পশুর হাটে আনাগোনা শুরু: দিয়াবাড়ীতে অব্যবস্থাপনার ক্ষোভ, গাবতলীর আকর্ষণ ‘নবাব’
Entertainment, Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #DhakaCattleMarket, #DiabariHutAnond, #EidUlAdha2026, #GabtoliHut, #QurbaniHut2026আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার পশুর হাটগুলোয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা ও ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি কোরবানির পশু নিয়ে হাটে আসছেন খামারি ও ব্যাপারীরা। তবে এবারের কোরবানির বাজারে স্বস্তির চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি ভর করেছে। পশুখাদ্য, পরিবহন ও হাটের আনুষঙ্গিক খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় গরুর দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ী ও ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে এখনো পুরোপুরি বেচাকেনা শুরু না হলেও দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। ক্রেতারা দাম শুনে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও বাজারে মাঝারি বাজেটের গরুর প্রতিই আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
উত্তরা দিয়াবাড়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পানি সংকট, শেডের ঘাটতি, কাদা-পানি ও নানা উটকো খরচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খামারিরা। রাজশাহীর বাঘা থেকে ১৯টি গরু নিয়ে আসা সাদ্দাম শেখ এবং পাবনার মামুন মণ্ডল অভিযোগ করেন, হাটে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক দূর থেকে কষ্ট করে পানি বয়ে এনে গরুকে খাওয়াতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শেড সংকট। চুয়াডাঙ্গার আব্দুর রশিদ ও কুষ্টিয়ার মোহাম্মদ ফিরোজ জানান, হাটে শুধু বাঁশ পুঁতে রাখা হয়েছে, কিন্তু শেড তৈরি না করায় বৃষ্টির পানিতে গরু ভিজে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাদা এড়াতে খামারিরা বাধ্য হয়ে নিজেদের পকেট থেকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ করে বালু কিনে ছিটচ্ছেন। এছাড়া ভালো জায়গা ও শেডের নিচে গরু রাখতে গরুপ্রতি ১ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত দাবি করার পাশাপাশি পিকআপ গাড়ির জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়ে ‘স্টিকার’ বা রেজিস্ট্রেশন নিতে বাধ্য করার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিষয়ে উত্তরা দিয়াবাড়ী হাটের ইজারাদার এস এফ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শেখ ফরিদ এক গণমাধ্যমকে বলেন, “আপনি যেসব অব্যবস্থাপনার কথা বলেছেন, এসব অলমোস্ট ওভারকাম করার ট্রাই করতেছি রাতের মধ্যেই। আপনি এখন এলে দেখবেন অনেকটাই সমাধান হয়ে গেছে। আর গরুর হাট তো, সব নন-এডুকেটেড পার্সন (অশিক্ষিত মানুষ)। সবই করা যায় না। তবে আগামীকালকের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।” ইজারাদারের এমন মন্তব্যে হাটে আসা খামারি ও ব্যাপারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খামারিদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা পশুখাদ্যের দাম। বিক্রেতারা জানান, গত বছর যে ভুসি ১ হাজার ৬০০ টাকায় কেনা গেছে, এবার তা ২ হাজার টাকা। ২ হাজার ৮০০ টাকার ছোলা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার টাকা। গম ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে ট্রাক ভাড়াও। গত বছর ২২ থেকে ২৮ হাজার টাকায় গরু পরিবহন করা গেলেও এবার সেই ভাড়া ২৬ থেকে ৩২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে প্রতিটি গরুর দাম গতবারের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বেশি হাঁকছেন তারা।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীতে এখনো পুরোপুরি বাজার না জমলেও ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মাঝারি গরুর সামনে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এবারের হাটের মূল আকর্ষণ কুষ্টিয়া থেকে আনা বিশালাকৃতির গরু ‘নবাব’। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া কেরানীগঞ্জ থেকে আনা ব্রাহামা জাতের একটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।
দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে জামালপুরের ১৫ লাখি হেভিওয়েট গরু এবং ভারতীয় জাতের বড় বড় মহিষও। গাবতলীর এক বিক্রেতা ক্রেতা আকর্ষণে তার মহিষের সঙ্গে একটি গরু ‘ফ্রি’ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। বাজারে কিছু ভারতীয় জাতের গরু দেখা গেলেও বিক্রেতারা জানান, এগুলো নতুন আমদানি নয়, বরং ৮-৯ মাস আগে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত হাট থেকে কিনে দেশীয় খামারে লালন-পালন করা হয়েছে।
হাটে রাতে পশু পাহারা, ট্রাক আনলোড ও বড় অঙ্কের নগদ টাকা বহন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। হাটে টাকা লেনদেন সহজ করতে কয়েকটি ব্যাংক ইতিমধ্যে অস্থায়ী বুথ বসিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশুর হাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। হাট সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী সোমবার থেকে কোরবানির বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।
