বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও মহাদেশীয় সংস্থাগুলোর চরম বিরোধিতা এবং টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকির মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। তীব্র অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সর্বমুখী চাপের মুখে এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, প্রস্তাবটি যে ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করেছে—তা ফুটবলের মূল ভাবমূর্তির সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার বাজারমূল্যের একটি নতুন বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল ফিফা। পরিকল্পনা ছিল, বিভিন্ন বেসরকারি বিনিয়োগকারীর কাছে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হবে এবং বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মূল পরিচালন ভার সেই প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিনিময়ে ২০২৭ সাল থেকে ২১১টি সদস্য দেশকে বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গর্জে ওঠে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA)। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে উয়েফা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেয়, ‘এই প্রস্তাব বহাল থাকলে উয়েফাভুক্ত কোনো দেশ ফিফার টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় এবং এটি বিক্রির সুযোগ নেই।’
পরবর্তীতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশন (কনকাকাফ)-ও উয়েফার অবস্থানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে টুর্নামেন্ট বর্জনের ইঙ্গিত দেয়। এমনকি ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল (CONMEBOL)-ও ফিফার কাছে এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে জবাবদিহি দাবি করে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক এই সংকটের মাঝে গতকাল ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও ফিফা সভাপতির কড়া সমালোচনা করে তাকে এ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
চতুর্মুখী রাজনৈতিক চাপ, বড় বড় মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলোর বয়কটের চরম হুমকি এবং কর্মকর্তাদের পদত্যাগের পর শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে ফিফায় পুনরায় ঐক্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
