গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারবিরোধী একদফা আন্দোলনের সময় যখন তারা জীবনবাজি রেখে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আলম হোসেন আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখছিলেন। অথচ এখন তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন।
এই অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাজী আলম হোসেন মণ্ডলের বিরুদ্ধে। তিনি মহানগরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র হত্যা মামলারও আসামি।
তার বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর বিএনপির ডাকা ঢাকার জনসভায় অংশ নিতে যাওয়া নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বিচারপতির বাসভবনের প্রধান ফটক ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় সহিংসতার সময় তিনি জাহাঙ্গীর আলমের সফরসঙ্গী ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ওই সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। গাজীপুরের গাছা থানার বিভিন্ন এলাকায় তখন ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় বলে জানা যায়।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, যারা তখন সহিংসতায় ভূমিকা রেখেছিল, এখন তাদের বিএনপিতে প্রভাব বিস্তার মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাছা থানা যুবদলের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক তুহীন গাজী ও স্থানীয় নেতা নাঈম হোসেনসহ একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্প্রতি আলম হোসেন মণ্ডল বিএনপিতে যোগ দেন। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় তিনি বিরোধিতায় ছিলেন, অথচ এখন অল্প সময়েই দলের প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠেছেন এবং বিএনপি নেতাদের ছবি টাঙিয়ে অফিসও খুলেছেন।
এ বিষয়ে গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, আলম হোসেন মণ্ডল আগে বিএনপিতে ছিলেন, পরে কিছুদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি আবার বিএনপিতে ফিরে এসেছেন। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।
