একদিকে চুক্তির আশা, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘অাডিওস’ হুমকি; ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কে চরম নাটকীয়তা
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #AdiosTrump, #BangladeshNews, #DonaldTrump, #EsmaeilBaghaei, #IranUSADiplomacy, #MarcoRubio, #TehranVsWashingtonদীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছে। ইরানকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পুরোনো কৌশলে ফিরে ট্রাম্প এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি একটি মার্কিন হামলার ছবি শেয়ার করেছেন, যার ক্যাপশন ছিল স্প্যানিশ শব্দ ‘অ্যাডিওস’ (Adios), যার অর্থ ‘বিদায়’।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে চলমান চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রকাশিত ওই এআই ছবিতে দেখা যায়, একটি শক্তিশালী মার্কিন ড্রোন আকাশ থেকে ইরানের পতাকাবাহী সামরিক নৌযানগুলোর ওপর বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে। কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধের অবসান এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যখন দুই পক্ষ ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই বৈরি পোস্টকে চাপ সৃষ্টির নয়া কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
হুমকি সংবলিত এই ছবিটিই ইরানের উদ্দেশে ট্রাম্পের প্রথম এআই-ভিত্তিক সতর্কবার্তা নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একাধিকবার এআই-নির্মিত ছবি ও অ্যানিমেশন পোস্ট করেছেন। যেখানে ইরানের ওপর মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানি জাহাজে ড্রোন আক্রমণ, ইরানকে লক্ষ্য করে তৈরি মার্কিন মানচিত্র এবং ভবিষ্যতধর্মী ‘স্পেস ফোর্স’-এর মহাজাগতিক হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
জবাব হবে ‘নরকসম’ ও ‘বিধ্বংসী’ ট্রাম্পের এমন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে রোববার (২৪ মে) কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের শীর্ষ কমান্ডার আলি আব্দুল্লাহি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর, নজিরবিহীন ও নরকসম জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।”
অন্যদিকে, ইরানের আরেক প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ নেতা ও মজলিসের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চুক্তি ভেস্তে দিয়ে পুনরায় সংঘাতের পথ বেছে নেন, তবে ইরানের এবারের প্রতিক্রিয়া হবে যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি বিধ্বংসী, তিক্ত ও ভয়াবহ।”
মাঠপর্যায়ে দুই দেশের সামরিক নেতাদের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মধ্যেই কূটনৈতিক টেবিলে বরফ গলার সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়ে বলেছেন, “কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে কিছু বড় এবং ভালো খবর পেতে পারে।”
এর আগে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন যে, সম্ভাব্য চুক্তির বেশিরভাগ খসড়া আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অভাবনীয় অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছেন, তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন— তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের পর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে যেকোনো চূড়ান্ত দরকষাকষি সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই ‘অ্যাডিওস’ হুমকি কেবলই আলোচনার টেবিলে ইরানকে দমানোর কৌশল, নাকি পর্দার আড়ালের চুক্তিই হতে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির আগামী দিনের মূল বাস্তবতা।
