কক্সবাজার জেলায় হামের সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সরকারের এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে রামুর ৪টি এবং মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুরা এই কর্মসূচির আওতায় টিকা পাবে। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪ হাজার ২৩০ জন এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। হাম শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো এবং চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিসেফের সহায়তায় সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলায় গত এক সপ্তাহে ১৩২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত মোট ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদর হাসপাতালে পৃথক ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *