কলকাতায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে; পশ্চিমবঙ্গে আ’লীগ নেতাদের মাঝে চরম আতঙ্ক
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #AwamiLeagueInIndia, #BangladeshNews, #BanshailYuvleague, #KolkataArrest2026, #ParkStreetPolice, #SavarChatraleague, #SuvenduAdhikariGovtবাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে অবৈধভাবে আশ্রয় নেওয়া দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। অনুপ্রবেশের সুনির্দিষ্ট দায়ে গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে (কাস্টডি) নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চলমান সাঁড়াশি অভিযানের মুখে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।
কলকাতার একাধিক নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকাকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানায়, গত ২০ মে কলকাতার বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘মার্কুইজ স্ট্রিট’ (Marquis Street)-এ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সন্ধানে বিশেষ ঝটিকা অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশ। সেখান থেকে ঢাকার বংশাল থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাদ বাপ্পী এবং সাভার থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রোহানুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা গ্রেপ্তারের পর কলকাতায় গোপনে অবস্থানরত দলটির একাধিক প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতা পার্ক স্ট্রিট থানায় তদবির এবং তাদের ছাড়ানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় জয় পেয়ে রাজ্যটিতে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এই পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জুলাই গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শত শত নেতাদের ধারণা ছিল— পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় তারা হয়তো আগের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকারের আমলের চেয়েও বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা পাবেন।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো রূপ নিয়েছে। নতুন বিজেপি সরকারের অনুপ্রবেশ বিরোধী কড়া অবস্থানের কারণে প্রথম সপ্তাহেই দুই নেতার গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনা কলকাতায় অবস্থানরত আ’লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতাদের রীতিমতো বিস্মিত ও আতঙ্কিত করে তুলেছে।
এদিকে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (নবান্ন)। গতকাল রোববার রাজ্যের সব কটি জেলা প্রশাসনকে এক জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে— বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে।
সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়, এসব হোল্ডিং সেন্টারে সন্দেহভাজনদের আটক করে প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। শুধু নতুন সন্দেহভাজনরাই নন, এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে আটক হয়ে যারা জামিনে বা কারাগারে আছেন, তাদেরও এই হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের নবান্নের পক্ষ থেকে পালিয়ে আসা বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপারে এখনও কোনো নরম কূটনৈতিক বার্তা না দেওয়ায়, এই দুই নেতার গ্রেপ্তার ও হোল্ডিং সেন্টার চালুর সিদ্ধান্ত কলকাতায় অবস্থানরত আ’লীগ নেতাদের ভাগ্যকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
