কাতারের উপহার দেওয়া বিলাসবহুল ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ ট্রাম্পের প্রথম সফর, শুরু তীব্র বিতর্ক
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #AirForceOne2026, #BangladeshNews, #DonaldTrump, #QatarGiftকাতারের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে চড়ে নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর সম্পন্ন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ বিশেষভাবে তৈরি এই বোয়িং ৭৪৭-৮০০ (Boeing 747-800) মডেলের বিমানটিতে ট্রাম্পের নিজস্ব রাজকীয় ব্যক্তিত্ব ও পছন্দের ছাপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷
গত বুধবার এই বিমানে চড়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি পরিদর্শনের জন্য নর্থ ডাকোটা যান৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকীতে উদ্বোধনের আগে ট্রাম্পই এই ঐতিহাসিক লাইব্রেরির প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শক হলেন৷
ঐতিহ্যবাহী নীল রঙ বাদ, ট্রাম্পের নিজস্ব নকশা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর মার্কিন এয়ার ফোর্স ওয়ানের দীর্ঘ ৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী হালকা নীল রঙটি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে৷ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী নতুন বিমানটির নিচের অংশ গাঢ় নীল এবং ওপরের অংশে লাল ও সোনালির রাজকীয় দাগ দেওয়া হয়েছে৷ বিমানের ভেতরে রয়েছে অত্যন্ত বিলাসবহুল কার্পেট, ঘুমানোর জন্য আরামদায়ক আসন, দামি কাঠের প্যানেলিং এবং সিট বেল্টে খোদাই করা রাষ্ট্রপতির বিশেষ সিলমোহর৷ নতুন বিমানটি নিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের চটকদার ভঙ্গিতে বলেন— “আপনি দুটি কাজ করতে পারেন, হয় এটিকে একদম সাদামাটা রাখতে পারেন, না হয় সবার সামনে প্রদর্শন করতে পারেন৷”
নতুন ও পুরোনো বিমানের ‘সেতু’ ও সামরিক বিতর্ক: হোয়াইট হাউস জানিয়েছে— কাতারের দেওয়া এই বিমানটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বা সেতু হিসেবে কাজ করবে৷ আগামী ২০২৮ সালের আগে পেন্টাগনের অর্ডার করা নতুন দুটি অফিশিয়াল বিমান পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ তাই মেয়াদের বাকি সময়ে ব্যবহারের জন্য ট্রাম্প কাতার থেকে পাওয়া বিমানটি প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন৷
তবে প্রেসিডেন্টের দেওয়া অল্প সময়ের কারণে মার্কিন বিমান বাহিনী বিমানের গভীর সামরিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজ সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে৷ বার্তা সংস্থা এপি (AP) বিমানটির ছবি বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছে— আগের পুরোনো মূল মার্কিন এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো এই বিমানে পেন্টাগনের নিজস্ব মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও তা আকাশেই প্রতিহত করার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই৷ মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিমানের নিরাপত্তার জন্য ৪০ কোটি ডলারেরও কম খরচ করেছে৷ প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিখ্যাত বিশ্লেষক জেরেমিয়া গার্টলার বলেন— “প্রতিরক্ষামূলক মিসাইল জ্যামার ব্যবস্থা ও জটিল যোগাযোগ অ্যান্টেনা কম থাকায় মনে হচ্ছে বিমানটি কেবল আমেরিকার দেশের ভেতরে ওড়ার জন্যই উপযোগী, দূরে যুদ্ধাবস্থায় ওড়ার জন্য নয়৷” তবে আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য হাই-প্রোফাইল ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প এই বিমানটিই ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন৷
নৈতিক প্রশ্ন ও ভেতরের অন্দরমহল: প্রেসিডেন্ট উপস্থিত না থাকলে সাংবাদিকদের বিমানের ভেতরে ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হয় না৷ তবে গত বুধবার হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভেতরের চোখধাঁধানো ছবি শেয়ার করেছেন৷ হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এবং মার্কিন প্রটোকল প্রধান মনিকা ক্রাউলি এর চামড়ার সোফায় বসা ছবি পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়৷
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মুসলিম দেশের কাছ থেকে মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন কোটি কোটি ডলারের মূল্যবান বিমান উপহার পাওয়া নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে গভীর নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে৷ তবে ট্রাম্প সমস্ত সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে একে পুরোনো বিমানের প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন হিসেবে দেখছেন৷ তিনি বলেন— “এটি এমন একটি মিত্র দেশের উপহার যারা আমাদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছে৷” ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষে এই বিমানটি শেষ পর্যন্ত কোনো এক প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে স্মৃতি হিসেবে রাখা হবে৷
সূত্র: এনডিটিভি
