ক্রিপ্টো ব্যবসায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাজিমাত, এক বছরে আয় করলেন ১০০ কোটি ডলারের বেশি
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #CryptoCapital, #DonaldTrumpWealth, #TrumpFinancials2026রিয়েল এস্টেট ও গলফ ক্লাবের দীর্ঘদিনের চেনা ব্যবসাকে ছাড়িয়ে এবার ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে অবিশ্বাস্য আর্থিক সাফল্য পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ গত এক বছরে শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি-সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবসা ও ডিজিটাল খাত থেকেই তিনি ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বেশি নিট আয় করেছেন৷
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের নৈতিকতা বিষয়ক সরকারি দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের বার্ষিক আর্থিক সম্পদ ও আয়ের ঘোষণাপত্র (ফিন্যান্সিয়াল ডিসক্লোজার) থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে৷ ৯২৭ পৃষ্ঠার ওই বিশদ আইনি নথিতে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সমর্থিত মিম কয়েন, ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বিচিত্র ব্যবসা থেকে আয়ের সম্পূর্ণ চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে৷
মিম কয়েন ও ডব্লিউএলএফ টোকেন থেকে আয়ের বন্যা: সরকারি ফিন্যান্সিয়াল ডিসক্লোজার অনুযায়ী— দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের মসনদে বসার ঠিক তিন দিন আগে ট্রাম্প চালু করেছিলেন ‘$TRUMP’ নামক একটি বিশেষ মিম কয়েন৷ এই ইন্টারনেটনির্ভর স্মারক ডিজিটাল সম্পদের ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের রয়্যালটি বাবদ ট্রাম্প একাই ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন৷ চালুর পর টোকেনটির দাম সর্বোচ্চ ৭৪.২৪ ডলারে উঠলেও গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তা ১.৬৭ ডলারে নেমে আসে৷
পাশাপাশি, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প ও তার দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’ (WLF)-এর টোকেন বিক্রি থেকে তিনি ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন৷ এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানির শেয়ার বিক্রি থেকে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ‘স্টেবলকয়েন হোল্ডকো লিমিটেড কোম্পানি’র শেয়ার বিক্রি থেকে আরও ১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার ট্রাম্পের তহবিলে জমা হয়েছে৷ এই প্রতিষ্ঠানের ‘USD1’ নামক স্টেবলকয়েনটি গত বছর আবুধাবির একটি সার্বভৌম তহবিল কর্তৃক বহুবিলিয়ন ডলার ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে বিনিয়োগের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে৷
রিয়েল এস্টেট ও ব্র্যান্ডিং থেকে রয়্যালটি: প্রকাশিত নথি বলছে— ট্রাম্পের ক্রিপ্টো-সম্পর্কিত এই ডিজিটাল আয় তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী রিয়েল এস্টেট ব্যবসার লাভকেও ছাড়িয়ে গেছে৷ গত এক বছরে ফ্লোরিডার বিখ্যাত মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে তিনি প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন৷ এ ছাড়া ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ঘড়ি, স্নিকার, সুগন্ধি, গিটার ও ট্রাম্প রেস্টুরেন্টস থেকেও কোটি কোটি টাকা রয়্যালটি এসেছে৷ তাঁর লেখা ‘সেইভ আমেরিকা’সহ বিভিন্ন বই ও বাইবেলের বিশেষ সংস্করণ থেকেও উল্লেখযোগ্য রয়্যালটি এসেছে৷
এই আর্থিক নথিতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ ‘মেলানিয়া’ শিরোনামের চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত চুক্তি থেকে তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং এনএফটি (NFT) ও আত্মজীবনী বিক্রি থেকে ৬০ লাখ ডলার নিট আয় করেছেন৷
মামলার সমঝোতা ও আদালতের জরিমানা: নথিতে প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি মামলার আর্থিক সমঝোতার অর্থও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প৷ এর মধ্যে মেটার কাছ থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, ইউটিউবের কাছ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার, এবিসি ও সিবিএসের কাছ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার করে এবং এক্স (টুইটার) থেকে ৮০ লাখ ডলার পাওয়ার তথ্য রয়েছে৷ তবে এই অর্থের সিংহভাগ তিনি ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করেছেন৷ অন্যদিকে, আর্থিক ঘোষণাপত্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতের দেওয়ানি জালিয়াতি মামলা ও লেখিকা ই. জিন ক্যারলের করা যৌন নিপীড়ন মামলার ক্ষতিপূরণজনিত আংশিক দায়ের কথাও উল্লেখ রয়েছে৷
স্বার্থের সংঘাতের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রধান উপ-প্রেস সচিব আনা কেলি এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন— “প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবারের সদস্যরা কখনোই কোনো স্বার্থের সংঘাত বা অনিয়মে জড়াননি৷ ট্রাম্প অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে রূপান্তর করেছেন এবং তিনি সব সময় মার্কিন জনগণের স্বার্থে কাজ করছেন৷”
