খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে উড়ল লাল পতাকা
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #AlJazeeraNews, #BangladeshNews, #EnqelabSquare, #KhameneiFuneral, #RedFlagIran, #RevengeForKhamenei, #TehranLiveইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে৷ রোববার ভোর থেকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগের দিন থেকেই হাজার হাজার শোকাহত ও ক্ষুব্ধ মানুষ লাল পতাকা হাতে নিয়ে তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব স্কয়ার এবং গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন৷ উল্লেখ্য— এই বিশেষ লাল পতাকাটি শিয়া মুসলিমদের ঐতিহ্য অনুযায়ী অন্যায়ের বিরুদ্ধে রক্তপাত, যুদ্ধ এবং চূড়ান্ত প্রতিশোধের আহ্বানের এক ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়৷
‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগানে কাঁপল তেহরান: পেন্টাগনের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চার মাস পর আয়োজিত এই বিদায় অনুষ্ঠানে জড়ো হওয়া লাখ লাখ ক্ষুব্ধ জনতা সমস্বরে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ (ডেথ টু আমেরিকা) বলে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন৷ একই সাথে তারা পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজের বিমান হামলায় নিহত হওয়া তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সুনির্দিষ্ট ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইরান সরকারের কাছে রানিং দাবি জানান৷ তেহরানের আকাশ-বাতাস এখন প্রতিশোধের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে৷
খামেনির গুরুত্ব ও লাল পতাকার তাৎপর্য: কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশিষ্ট গবেষক মোহাম্মদ এসলামি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন— “খামেনির অনুসারীরা ও সাধারণ ইরানিরা এই লাল পতাকা তুলেছে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক প্রতিশোধ চাওয়ার জন্য৷”
ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের এই গবেষক আরও ব্যাখ্যা করেন— “ইরানের সাধারণ মানুষ চাইছে, যারা তাদের প্রিয় সর্বোচ্চ নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করেছে, ইরান সরকার যেন আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক শক্তি দিয়ে তাদেরকে কঠোরভাবে হত্যা বা ধ্বংস করে৷ আয়াতুল্লাহ খামেনি শুধু দেশের একজন সাধারণ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নেতা ছিলেন না—তিনি ইরানের সাধারণ জনগণের কাছে এর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, পবিত্র ও প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন৷”
নিরাপত্তা বেষ্টনী ও যুদ্ধের রানিং উত্তেজনা: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহির কড়া হুঁশিয়ারির পর পুরো তেহরান জুড়ে এখন যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে৷ জানাজা ও দাফনের পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় কোটি মানুষের জনসমাগমের রানিং প্রত্যাশা করছে দেশটির পেজেশকিয়ান সরকার৷ বিপুল এই সমাগমকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য আকাশপথের হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রেখেছে তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড৷
সূত্র: আল জাজিরা
