রাজনৈতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCC South Asia)-এর সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এফসিসির উদ্যোগে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা অংশ নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ জানান, শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না; তিনি অডিওর মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হবেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং বাংলাদেশে ফেরার বিষয়েও বক্তব্য দিতে পারেন।

ড. আউয়াদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি সত্ত্বেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এফসিসি একটি স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন মত ও পক্ষের প্রতিনিধিদের বক্তব্য তুলে ধরার নীতিতে বিশ্বাসী।

তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ হাই কমিশনারকে একাধিকবার এফসিসিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ড. আউয়াদ আরও বলেন, ভারতের সংসদীয় কমিটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত পর্যালোচনা নিয়ে এফসিসি তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা বাধা জানানো হয়নি।

আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ছাড়াও ভার্চুয়াল এই প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং শাহ মো. বখতিয়ার।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এফসিসি সাউথ এশিয়ার বক্তব্য এবং দৈনিক ওয়াদা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *