গুলিস্তানে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ মিছিলে যুবদল ও আওয়ামী লীগ নেতাদের যৌথ হামলা
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #AwamiLeague, #BangladeshNews, #BNPYouthWing, #DhakaPolitics, #ExtortionProtest, #FulbariaClash, #GulistanClash, #jamaateislamiরাজধানী ঢাকার গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় ফুটপাত, মার্কেট দখল এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে অতর্কিত ও সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে স্থানীয় যুবদল এবং আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা৷
আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভারের নিচে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে৷ হামলায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কর্মী কবিরসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে৷
হামলার প্রেক্ষাপট ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ: জামায়াত ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে— বেশ কয়েকদিন ধরে একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও দখলদার চক্র গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী এবং জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল৷ সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ— একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবৈধ চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক দোকান দখলবাজি অব্যাহত রেখেছে৷ কিছুদিন আগে তারা ফুলবাড়িয়ার একটি বড় মার্কেট তালাবদ্ধ করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালালে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা তাদের পাশে দাঁড়ান এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন৷
এরই রানিং ধারাবাহিকতায়, আজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলবাজির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান করে জামায়াতে ইসলামী৷ মিছিল শুরুর প্রাক্কালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে জড়ো হতে থাকলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়৷
হামলাকারীদের পরিচয় ও অস্ত্রের ব্যবহার: ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জামায়াত নেতাদের দাবি— যুবদলের স্থানীয় যুগ্ম আহ্বায়ক রঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মামুন কমিশনার, সাধারণ সম্পাদক ডালিম, মামুন কমিশনারের বডিগার্ড মনা ওরফে শুটার মনা এবং আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ, মালেক ও জুয়েলসহ প্রায় ১২০ জনের একটি সশস্ত্র দল এই হামলা প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেয়৷ হামলাকারীরা দেশীয় তৈরি পিস্তল, ধারালো ছুরি, হকি স্টিক, লোহার রড, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মিছিলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও ইটপাটকেলের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন৷
ঢাকা মেডিকেলে মহানগরী আমির ও রানিং উত্তেজনা: এদিকে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ আহতদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে আজ শনিবার রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের৷ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই বর্বর হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করবেন এবং দলের রানিং অবস্থান ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে৷ গুলিস্তান এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি রানিং থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷
