চট্টগ্রামে শিশু আয়াতকে নৃশংসভাবে হত্যা মামলার রায় আগামীকাল, সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চায় রাষ্ট্রপক্ষ
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #AyatMurderCase, #BangladeshNews, #ChittagongCrime, #CourtVerdictBD, #EPZPoliceStation, #JusticeForAyat, #PBIInvestigation, #VerdictTomorrowচট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকার বহুল আলোচিত ও দেশ কাঁপানো শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত৷ বিজ্ঞ আদালতে উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানির পর রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের জোর দাবি জানিয়েছে৷ ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস আইনগত যুক্তিতর্ক শেষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন৷
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, এই স্পর্শকাতর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে নিজেদের সাক্ষ্য দিয়েছেন৷ আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায়ের জন্য ১৭ জুন বুধাবর দিনটি সুনির্দিষ্ট করেন৷ রাষ্ট্রপক্ষ অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আসামির সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি চেয়েছে৷
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী ফুটফুটে মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকেলে বাসার পাশে একটি মক্তবে পড়তে যায়৷ পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ফিরে না আসায় পরিবার জানতে পারে শিশুটি মক্তবেই যায়নি৷ ১০ দিন ধরে নিখোঁজ ও চরম উৎকণ্ঠায় থাকার পর পরিবার জানতে পারে, তাদের কলিজার টুকরো সন্তানকে নৃশংসভাবে খুন করেছে তাদেরই অত্যন্ত পরিচিতজন আবির মিয়া৷ শিশু আয়াত যাকে পরম স্নেহে ‘চাচ্চু’ বলে ডাকত৷
এই ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পরবর্তীতে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)৷ পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আয়াতদের বাসার ভাড়াটিয়া মো৷ আবির সরাসরি এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন৷ ওই বছরের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আবির নিজে স্বীকার করেন যে, তিনি আয়াতকে হত্যা করেছেন৷
পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদনে জানায়, মূলত মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের হীন উদ্দেশ্যে শিশু আয়াতকে অপহরণ করেছিল আবির৷ কিন্তু পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সে আয়াতকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে৷ পরে পাপ লুকাতে তার অবোধ মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ড্রামে ভরে ফেলে দেওয়া হয়৷ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন৷ এতে মূল হোতা মো৷ আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়৷ কিশোর হওয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দ্বিতীয় আসামির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি৷
বর্তমানে প্রধান আসামি আবির মিয়া কারাগারে বন্দি রয়েছেন৷ অপরদিকে কিশোর আসামির বিচার প্রক্রিয়া পৃথকভাবে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে৷ রায়ের আগে এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় আয়াতের মা সাহেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এক মুহূর্তের জন্যও আমার নিষ্পাপ মেয়ের মুখ আমি ভুলতে পারিনি৷ আমরা খুনি আসামির দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি চাই৷” মামলার বাদী ও আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, “আমার ছোট মেয়েটাকে পশুর মতো নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে৷ আমি আদালতের কাছে খুনি আবিরের ফাঁসি চাই৷”
