জামালপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে আপন স্ত্রীকে নির্মমভাবে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী মো৷ আনোয়ার হোসেনকে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত৷ একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন৷ দণ্ডপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের লম্বাপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা৷

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও দীর্ঘ আইনি রানিং প্রক্রিয়া: নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে— আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে অর্থাৎ ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ১ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে তা না পাওয়ায় নিজ ঘরের ভেতর স্ত্রী ইসমত আরা খানকে নির্মমভাবে গলা টিপে হত্যা করে আনোয়ার হোসেন৷ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই মজনু মিয়া বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় আনোয়ারসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ মামলাটি দায়েরের পর পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে৷ পরবর্তীতে মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া রানিং থাকা অবস্থায় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) রাষ্ট্রপক্ষের মোট ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন৷ সাক্ষীদের জবানবন্দি ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ বিচারক আজ এই সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করেন৷

৩০২ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ও আসামির আত্মগোপন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো৷ ফজলুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন— “মামলায় যৌতুকের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি টেকনিক্যাল কারণে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলেও, আনোয়ার হোসেন যে ঠাণ্ডা মাথায় তার স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেছে— সেই মূল হত্যাকাণ্ডের অভিযোগটি আদালতে সম্পূর্ণ ও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে৷ তাই বিজ্ঞ আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (দণ্ডবিধি-১৮৬০) আসামি আনোয়ার হোসেনকে ফৌজদারি অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন৷”

পিপি অ্যাডভোকেট মো৷ ফজলুল হক আরও জানান— মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মূল আসামি আনোয়ার হোসেন বর্তমানে সম্পূর্ণ পলাতক রয়েছে৷ মামলাটির রানিং বিচার চলাকালীন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই সে সুকৌশলে আত্মগোপনে চলে যায়৷ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে রায় কার্যকরের জন্য পুলিশকে রানিং নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে৷

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *