ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ’লীগ-বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৮, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #AwamiLeague, #BangladeshNews, #BNP, #CrimeUpdatesBD, #HarinakunduConflict, #JhenaidahNews, #LawAndOrder, #LocalFeud, #PoliticalViolenceBDঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন৷ আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে৷ এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷
মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের খতিয়ান: পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে বোয়ালিয়া গ্রামের একটি পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের স্থানীয় লোকজনের মধ্যে প্রথম বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়৷ ওই প্রথম দফার সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমানের ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন৷
এরই ধারাবাহিকতায় এবং পূর্ববিরোধের জেরে আজ শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে পুনরায় নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়৷ একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের সমর্থিত আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বেধে যায়৷ সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষই রামদা, ঢাল-সড়কিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে৷ এতে পুরো গ্রামজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷
তিন হাসপাতালে ভর্তি ও গুরুতর আহত: সংঘর্ষের পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন৷ চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে৷
পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্য: ঘটনার বিষয়ে ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এটি আসলে কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নয়৷ গ্রামীণ একটি পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরোধের জেরে এই মারামারির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে৷”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা মশিউর রহমান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ এনে বলেন, “শুক্রবার মাছ ধরা নিয়ে একটি সাধারণ ঝামেলা হয়েছিল৷ তারই সূত্র ধরে আজ শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়৷ পরে উভয় পক্ষ নিজেদের রক্ষার্থে সংঘর্ষে জড়ায়৷ হামলায় আমার দলের অন্তত ১০ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন৷”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ: হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আসিত কুমার রায় জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই থানা পুলিশের একটি বড় দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷ নতুন করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও রক্তপাত এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বোয়ালিয়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার মূল কারণ তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
