কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এক দশক পর তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতির তথ্য সামনে এসেছে। মামলার আলামত ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং এক ব্যক্তির রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিবিআই সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রাপ্ত ডিএনএ দলিলের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ছয়জনের সম্পৃক্ততার ধারণা নিয়ে এগোচ্ছে তদন্তকারী দল। ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে চার সাবেক সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে আরও দুই ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি মিলেছে। নতুন নির্দেশের আওতায় রয়েছেন কুমিল্লা রাজাপাড়ার ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তবে মামলার তদন্ত স্বার্থে ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
ইতোমধ্যে পিবিআই গত এপ্রিলে ডিএনএ প্রতিবেদনের সুত্র ধরে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার অন্যতম প্রধান দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম গোপনে দেশ ত্যাগ করেছেন। আদালতে জাহিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং শাহীন আলমের সর্বশেষ অবস্থান বিমানবন্দরে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে শনাক্ত করা হয়েছে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেনি। তাকে ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। প্রথম ময়নাতদন্তে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও তিনি ক্ষোভ জানান।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি জ্যান্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি। মৃত্যুর আগে কেবল আমার নিষ্পাপ মেয়ের হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি ও ফাঁসি দেখে যেতে চাই।”
তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন ডিএনএ সংগ্রহ, বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালানোসহ আইনি পদক্ষেপগুলো জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে রাতে তার মরদেহ পাওয়ারহাউস সংলগ্ন ঝোপঝাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সিআইডির প্রতিবেদনে তনুর কাপড়ে ৩ জনের শুক্রাণুর কথা উল্লেখ থাকলে বর্তমানে পিবিআইয়ের পুনর্মূল্যায়নে তা ৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
