তোফায়েল আহমেদের জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা, পুলিশের লাঠিচার্জ ও ১০-১৫ জন আটক
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #DhanmondiJanaza, #joybanglaslogan, #PoliceActionDhaka, #SquareHospital, #TakwaMosque, #TofailAhmedPassesAway, #ZisanulHaqADCরাজধানীর ধানমন্ডিতে বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করে বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে এবং এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ধানমন্ডির মাসজিদ-উত-তাকওয়ায় (তাকওয়া মসজিদ) এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আটকের বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন。
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই হঠাৎ উপস্থিত কিছু লোক উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ শুরু করে এবং স্লোগানকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ধানমন্ডি জোনের এডিসি জিসানুল হক বলেন, ‘জানাজা শেষে জানাজাস্থল থেকে যাতে করে যথাসময়ে এবং স্মুথলি মরদেহবাহী গাড়িটি চলে যেতে পারে, আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই জরুরি ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। আর যারা সেখানে স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে, তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজনকে আটক করা হয়েছে, সেই সঠিক সংখ্যাটি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। যাচাই-বাছাই শেষ করে পরে তা বিস্তারিত জানানো হবে।’
আটককৃতরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিৃঙ্খলাকারীদের আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে দেখছি না এবং তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যারা আইন অমান্য করে বিশৃঙ্খলা করেছে, কেবল তাকেই ধরা হয়েছে। তবে যদি আটককৃতদের মধ্যে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ে কোনো সাধারণ নাগরিক বা নিরপরাধ কেউ থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে বর্ষীয়ান এই নেতার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজডসহ অন্যান্য নানা বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দীর্ঘদিন তিনি সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ধানমন্ডিতে প্রথম জানাজা শেষে এই বর্ষীয়ান নেতার পরবর্তী জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া আগামীকাল মঙ্গলবার তার গ্রামের বাড়ি ভোলায় অনুষ্ঠিত হবে।
একনজরে তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবন:
জন্ম: ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক: ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি থাকাকালীন আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পান।
সংসদ সদস্য: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হন এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে আরও ৮ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম প্রধান সংগঠক ও ‘মুজিব বাহিনী’র অন্যতম আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
মন্ত্রিত্ব: আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সাবেক এই সদস্য ১৯৯৬ সালে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
