পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলা: বাবার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNewsরাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তা প্রহরায় আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। আদালতে হাজির করার পর তাদেরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রথম দিনেই মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা। এর আগে গতকাল সোমবার (১ জুন) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। ওই দিন বিকেলেই ট্রাইব্যুনাল মামলার বাদীসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আজ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।
এর আগে গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রটি (চার্জশিট) আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেয়। একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান এই চার্জশিট জমা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে নিজেদের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির বন্ধ ঘরের সামনে শিশুটির জুতা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় ডাকাডাকি করেন তিনি। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং তার কাটা মাথাটি রুমের ভেতরেই একটি বড় বালতির মধ্যে লুকানো ছিল। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এই নৃশংস ঘটনায় ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
