যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিয়ন্ত্রিত দ্বীপাঞ্চল গুয়াম ও নর্দান মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ও দানবীয় শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছে ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার সুপার টাইফুন ‘বাভি’ (Super Typhoon Bavi)৷ আঘাত হানার সময় দ্বীপাঞ্চল দুটিতে বাতাসের রানিং গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯০ কিলোমিটার৷ যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার ইতিমধ্যেই বাভিকে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে৷ প্রলয়ংকরী এই ঝড়ের সরাসরি আঘাতে নর্দান মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের রোটা দ্বীপে ইতোমধ্যে বড় ধরনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে৷ দানবীয় ঝড় ও স্মরণকালের সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই সমগ্র দ্বীপপুঞ্জে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড ও থমকে গেছে৷

রোটা দ্বীপে সরাসরি আঘাত ও সাইপানে তাণ্ডব: আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে— রোটা দ্বীপটি গুয়ামের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এবং সুপার টাইফুনটি সরাসরি এই দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে৷ রোটা দ্বীপের মেয়র এক জরুরি ভিডিও বার্তায় চরম রানিং পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সবাইকে ঘরের বাইরে বের না হতে এবং যেকোনো মূল্যে নিরাপদে থাকার কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন৷

এদিকে রোটার ঠিক উত্তরে অবস্থিত সাইপান দ্বীপেও বাভির তাণ্ডব শুরু হয়েছে৷ সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির তীব্র দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে— এই ঝড় অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর প্রভাবে সমুদ্রে প্রায় ৩৫ ফুট উঁচু দানবীয় ঢেউ বা জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় অবঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে৷ আবহাওয়া বিভাগ আরও সতর্ক করেছে যে— আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত এই ঝড়ের বাতাস খুবই শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক থাকবে, এরপর এটি ধীরে ধীরে তার শক্তি হারাতে পারে৷

আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের ঢল ও জলবায়ু সংকট: প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বাসভূমি গুয়ামে সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি প্রধান আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে৷ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— এই কেন্দ্রগুলোতে মোট প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে৷ তবে ঝড়ের তীব্রতা বাড়ায় গতকাল রোববার দুপুরের মধ্যেই একটি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে নতুন আসা মানুষদের দ্রুত অন্য রানিং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে৷

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে প্রায়শই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বা টাইফুন আঘাত হানে৷ তবে আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন— বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে এখন আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও দানবীয় টাইফুন তৈরি হচ্ছে৷ মার্কিন কোস্ট গার্ড ও উদ্ধারকারী দলগুলো উপদ্বীপে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রানিং উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে৷

সূত্র: বিবিসি

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *