মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় এক বিশেষ ও সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র এবং ভয়াবহ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক সামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)৷ বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর এই বিশেষ অভিযানে তিনটি বিদেশি তৈরি অত্যাধুনিক পিস্তল, ৩ কেজি বিস্ফোরক জেলসহ বিপুল পরিমাণ ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়েছে৷ তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের সুযোগে বনের ভেতর পালিয়ে গেছে সন্দেহভাজন দুষ্কৃতিকারীরা৷
গত বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত গভীর রাতে গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা উপজেলার বিওসিটিলা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এই বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়৷
মধ্যরাতের অভিযান ও উদ্ধার অভিযান: বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়— বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজনের সরাসরি নেতৃত্বে বিওসিটিলা বিওপির একটি দক্ষ ও বিশেষ অভিযানিক দল বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়৷ এ সময় সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীর গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন৷ কিন্তু বিজিবি কমান্ডোদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারীরা রাতের অন্ধকার ও সীমান্তের ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়৷
পরবর্তীতে বিজিবি জোয়ানেরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৩৮৫/এম থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় এক ব্যাপক ও নিবিড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেন৷ তল্লাশিকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি ওজনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘পাওয়ার জেল নাইনটি’ বিস্ফোরক (২৩টি বিশেষ টিউব), ২৪টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তৈরির বিশেষ তার এবং দুটি ধারালো কুকরি চাপাতি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়৷
আইনগত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু: বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— উদ্ধারকৃত এসব মারাত্মক অস্ত্র ও ভয়াবহ বিস্ফোরক সামগ্রীর মূল উৎস কী, কোন উদ্দেশ্যে এগুলো বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল এবং এর সম্ভাব্য গন্তব্য কোথায় ছিল, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ একই সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক চোরাচালান ও চক্রের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে৷
এ বিষয়ে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে— এ ধরনের সময়োপযোগী ও কঠোর অভিযান সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান এবং অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷ পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও তা বিশেষভাবে সহায়ক হবে৷” প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন ও দেশের চলমান পরিস্থিতির মাঝে বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় এমন বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে৷
