সারাদেশের মতো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেও টানা ভারী বর্ষণ ও মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে এক চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ পাহাড়ধস এবং পাহাড়ি ঢলের তীব্র ঝুঁকি বিবেচনা করে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সমস্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা এবং পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আগামী ১২ জুলাই (রোববার) পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন৷ গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত জারি করা এক জরুরি ও বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা বর্ধিতকরণের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷
জানমালের নিরাপত্তা ও গণবিজ্ঞপ্তির রানিং নির্দেশনা: জেলা প্রশাসনের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— বান্দরবানে বিদ্যমান মারাত্মক আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ঝুঁকি গভীরভাবে বিবেচনা করে পর্যটক এবং স্থানীয় জনসাধারণের জান-মালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এই রানিং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এর আগে গত ৬ জুলাই জারিকৃত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতা ও অনুবৃত্তিক্রমে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সমস্ত সরকারি-বেসরকারি পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হলো৷
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে— এই নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে জেলার সমস্ত দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, বিপজ্জনক পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম সীমান্ত এলাকা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা সমস্ত স্থানে পর্যটকদের যেকোনো ধরনের ভ্রমণ বা যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে৷ একই সঙ্গে জেলার সমস্ত ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি এবং পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই রানিং দুর্যোগের সময়ে প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিটি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করার কড়া আহ্বান জানানো হয়েছে৷
পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা: বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের এই পার্বত্য জেলায় অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে৷ ১২ জুলাইর পর আবহাওয়ার রানিং পরিস্থিতি এবং পাহাড়ের মাটি ধসের সার্বিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন করে পরবর্তী সময়ে নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনা বা পর্যটন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে৷ প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে— এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো পর্যটক বা ট্যুর গাইড ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢল বা ট্রেইলে প্রবেশ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
