বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা একসময় তাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু তারা যদি ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের পরিণতি আরও খারাপ হবে। আগামীর বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে অন্য মত ও দলকে দমন করতে দেওয়া হবে না।

আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন করে সহানুভূতির রাজনীতি ও ‘কার্ড গেমে’ এদেশের মানুষকে পড়তে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকারীরা ভারতে গ্রেপ্তার হলেও মাসের পর মাস পেরিয়ে গেছে, এখনো তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব দাবি করেন।

একই সাথে বিগত সময়ে দেশ কাঁপানো আছিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই ঘটনায় প্রথমে ৩০ দিনের মধ্যে, পরে ৯০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকরের কথা বলা হলেও ছয় মাস পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।”

সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যদি আমরা পিছিয়ে যাই বা কথা বলা বন্ধ করে দিই, তাহলে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা আরও বড় স্বৈরাচার হয়ে উঠবে। সেই সুযোগ আর কাউকে দেওয়া যাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি, তাই আন্দোলনের লড়াইও শেষ হয়নি। বিএনপি জুলাই সনদ, গণভোট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন স্বাধীন ও পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের দাবি করলেও এখন ক্ষমতায় এসে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্টকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত আইন বাতিল করা হয়েছে। একদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, অন্যদিকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে বিএনপি কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারবে না। যেকোনো রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে এবং এনসিপি তাদের আদর্শিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *