বিশ্বকাপে নতুন ৪ রূপকথা: দেড় লাখের কুরাসাও থেকে লিংকডইনে খেলোয়াড় খোঁজা কেপ ভার্দে
Entertainment, Featured, Latest, News, Popular, Sports, Trending #abongtv, #BangladeshNews২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মানেই নতুন রেকর্ড আর বৈচিত্র্যের মহোৎসব। ৪৮ দলের এই মেগা আসরে ফুটবল বিশ্বের চেনা পরাশক্তিগুলোর পাশাপাশি এবার দেখা মিলবে একঝাঁক নতুন মুখের। দীর্ঘ অপেক্ষা, অতীতের বারবার ব্যর্থতা আর তৃণমূল ফুটবলের ধারাবাহিক উন্নয়নের গল্প বুনে এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চের টিকিট কেটেছে চার নবাগত দেশ। ফুটবল মানচিত্রে নতুন ইতিহাস গড়া এই চার প্রতিনিধি হলো— কুরাসাও, উজবেকিস্তান, জর্ডান এবং কেপ ভার্দে।
এদের উত্থানের গল্পগুলো যেন একেকটি রূপকথাকেও হার মানায়। নিচে এই চার ফুটবল যোদ্ধার বিশ্বমঞ্চে আসার ইনসাইড স্টোরি তুলে ধরা হলো:
১. কুরাসাও: ঢাকা শহরের সমান দেশ এখন বিশ্বমঞ্চে
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে চান্স পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও (Curaçao)। মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার এই দেশটির মোট আয়তন ১৭১ বর্গমাইল, যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের চেয়েও সামান্য বড়! কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৫০-এর নিচে থাকা দলটি ধারাবাহিক উন্নতি করে এখন উঠে এসেছে ৮০-এর ঘরে। শক্তিশালী জামাইকার বিপক্ষে ড্র করে ইতিহাস গড়া কুরাসাও হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম ক্ষুদ্রতম দেশ।
২. কেপ ভার্দে: লিংকডইনে ফুটবলার খুঁজে ইতিহাস!
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে (Cape Verde)। ১৯৯০ সাল থেকে চেষ্টা করতে করতে এবার তারা চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছে। তবে তাদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার কৌশলটি ছিল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঘটনা। তারা ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা কেপ ভার্দে বংশোদ্ভূত প্রতিভাদের খুঁজে বের করে জাতীয় দলে ভেড়ায়। বর্তমান স্কোয়াডের ৬ জন ফুটবলারের জন্ম নেদারল্যান্ডসে। আরও মজার ব্যাপার হলো, আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া তাদের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার রবার্ত-কে কেপ ভার্দে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রফেশনাল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘লিংকডইন’ (LinkedIn)-এর মাধ্যমে খুঁজে বের করে জাতীয় দলে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল!
৩. জর্ডান: ৪০ বছরের আক্ষেপ ঘুচল মরুভূমির দেশের
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডান প্রায় ৪০ বছর আগে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছিল। এরপর টানা নয়বার মূল আসরের খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাসে পুড়তে হয়েছে তাদের। অবশেষে এএফসি (AFC) বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘বি’ থেকে রানার্সআপ হয়ে সব খরা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল টিকিট নিশ্চিত করেছে মরুভূমির এই প্রতিনিধিরা।
৪. উজবেকিস্তান: অবশেষে কাটল ট্র্যাজেডি
এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও উজবেকিস্তানের কপালে এতদিন লেপ্টে ছিল ‘চোকার্স’ অপবাদ। ২০০৬ জার্মানি এবং ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের বাছাইয়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে ট্র্যাজিক বিদায় ঘটেছিল তাদের। তবে এবার আর ভুল করেনি উজবেকরা। বর্তমান স্কোয়াডের একঝাঁক তরুণ ও ইউরোপীয় লিগে খেলা প্রতিভাবান ফুটবলারদের ওপর ভর করে প্রথমবারের মতো স্বপ্নের টিকিট হাতে পেয়েছে মধ্য এশিয়ার এই দেশ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে এই চার দলের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, ফুটবল এখন আর কেবল বড় বড় পরাশক্তি কিংবা শত কোটি জনসংখ্যার দেশের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। সঠিক পরিকল্পনা, ডেটা স্কাউটিং এবং আবেগকে কাজে লাগাতে পারলে যেকোনো ক্ষুদ্র দেশও বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে পারে।
