বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির রুদ্ররূপ: ভেনেজুয়েলা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ভূমিকম্প, লাক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকিতে কারাকাস
Featured, Latest, News, Popular, Trending, Weather #abongtv, #BangladeshNews, #CaliforniaEarthquake, #CaracasCrisis, #EmergencyDeclared, #GlobalEarthquake2026, #InternationalNews, #JapanEarthquake, #NaturalDisaster, #USGSAlert, #VenezuelaEarthquakeএকই দিনে বিশ্বের তিন পৃথক মহাদেশের তিন রাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও মাঝারি ধরনের একাধিক ভূমিকম্প৷ এর মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় রিখটার স্কেলে ৭.৫ এবং ৭.২ মাত্রার দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্প, এশিয়ার দেশ জাপানে ৬.৯ মাত্রার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে৷ সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ভেনেজুয়েলা, যেখানে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক সংস্থা৷
ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া প্রলয়: মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে প্রথম ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে৷ এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনে দেশটির মাটিকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়৷ ইউএসজিএস জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে৷
ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে ভেনেজুয়েলার ট্রুহিলো, কারাবাও, মিরান্ডা এবং লা গুয়াইরা রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়ে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে৷ ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছানোর ৪৪ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার ৩০ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে৷ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক ভবন রিইনফোর্সড ইট এবং কাঁচা মাটির ব্লক দিয়ে তৈরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর হার এত উচ্চ হওয়ার অন্যতম কারণ৷
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের জরুরি অবস্থা ঘোষণা: দেশজুড়ে এমন নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ৷ এক জরুরি বার্তায় তিনি জানান, মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মাইকেতিয়ার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ এ ছাড়া দেশজুড়ে সমস্ত স্কুল-কলেজের ক্লাস বাতিল, মেট্রো ও আন্তনগর রেলসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এবং সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় করপোরেট কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
জাপানে ৬.৯ মাত্রার আঘাত, বুলেট ট্রেন বন্ধ: অন্য দিকে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের উত্তর-পূর্বে রিখটার স্কেলে ৬.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে৷ ইউএসজিএসের তথ্য মতে, ভূমিকম্পটি কুজি থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ৫১.৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে৷ তবে দেশটির মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন— এই ভূমিকম্প থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাভাবিক রয়েছে৷
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সরকারকে ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জরুরিভাবে মূল্যায়ন’ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন৷ সতর্কতাস্বরূপ জেআর ইস্ট (East Japan Railway Company) তাদের উত্তর প্রান্ত শিন-আওমোরি এবং টোকিওর মধ্যে চলাচলকারী দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন পরিষেবা সাময়িক স্থগিত করেছে৷
ক্যালিফোর্নিয়ায় কাঁপল ৭ মাইল এলাকা, বিদ্যুৎহীন মেন্ডোসিনো: একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে একটি মাঝারি ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার মাত্রা ছিল ৫.৬৷ ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ভ্যালি থেকে প্রায় ৭ মাইল উত্তরে এর কেন্দ্রস্থল ছিল৷ উত্তর ইউরেকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্বের স্যাক্রামেন্টো পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ তীব্র কম্পন অনুভব করেন৷
ইউটিলিটি ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘পাওয়ারআউটেজ ডট কম’ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই মেন্ডোসিনো কাউন্টির প্রায় ৭ হাজার ৪০০ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে৷ তবে ক্যালিফোর্নিয়া ও ওরেগন রাজ্যের মানুষের ফোনে ইউএসজিএসের ‘শেকঅ্যালার্ট’ ব্যবস্থা ও ‘মাইশেক’ অ্যাপের আগাম সতর্কবার্তা সময়মতো পৌঁছানোর কারণে মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে আসতে সক্ষম হয়, যা বড় ধরনের বিপদ থেকে নাগরিকদের রক্ষা করেছে৷
সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা, বিবিসি
