ভূমি দস্যুদের টার্গেট এবার যশোর শহরের ৬নং ওয়ার্ড রায়পাড়া ইসমাইল কলোনীর নয়নতারা খোদেজার জমি বাড়িঘর। মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলায় দুটি অসহায় পরিবারের সদস্যদের জীবন নাজেহাল করছে এসব সামাজিক দূবৃত্ত।
১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী সেই সব সামাজিক অপরাধী আবারো যশোর শহরে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। এরা ভূমি অফিসের দুই এক কর্তাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ শহরে করে বেড়াচ্ছে। নিজেদের বয়স বেশি হওয়ায় কয়েক জন তাদের থেকে কম বয়সী সাথে নিয়ে শহর জুড়ে দাপিয়ে অপরাধ করছে। এই অপরাধী চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে যশোর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বেজপাড়ার সাহেবজানের ছেলে সামছু। শাহাদত বেড়ে মারা যাওয়ার পর এখন তার সাথে ভিড়েছে একই এলাকার মৃত ইসাহকের ছেলে আশিক, তার ভাই শওকত ও নাছিম। এদের সাথে আছে শাকিল গঙ।১৯৭১ সালে বেজপাড়া, রেলগেট, চাঁচড়া, খড়কি, কারবালা, পুরাতনকসবা, নতুন উপশহরে পাকিস্তানী দোসররা জব্বর ঘাঁটি গাড়ে। এসব ঘাঁটির আওতায় বিভিন্ন এলাকায় বাঙালি হত্যা করা হয়। যার যশোর অঞ্চলে দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিল হাবিব টেনিয়া ও সাহেবজান। এদের সাথে ছিল রেলগেটের ইকবাল, নেহালসহ জনা চল্লিশের একটি বাহিনী। যারা লুটপাট, নারী ও কিশোরী ধর্ষণ, বাঙালির বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস, পুরুষ, কিশোর কিশোরী, যুবক হত্যাসহ শত সহস্র হত্যা অপকর্মে জড়িত ছিল। হত্যা খুনে মানুষের জীবন প্রদীপ নেভানো, নারী কিশোরী ধর্ষণ খুনে প্রত্যক্ষ জড়িত ছিল এই হাবিব টেনিয়া ও সাহেবজান গঙ।পাকিস্তানী দোসর বাহিনী রেলগেটের ঐতিহ্যবাহী সর্দার বাড়ির পল্টু সর্দারের পিতাকে হত্যা করে। এরা সে সময় হাজী মুকুলের দাদা রায়পাড়া ইসমাইল কলোনীর আমজেদ আলী মোল্লাকে হত্যা করে। এরপর চোরমারা দীঘির সায়েম সর্দারের ছেলে, আহম্মদ মুন্সীর ভাই, রায়পাড়া ইসমাইল কলোনীর চান মুদ্দিন ও রায়পাড়ার আলী উকিলের শশুর রউফ মাস্টারকে খুন করে। নয়ন তারাদের বাড়ি পুড়িয়ে লুটপাট করে। অভিযোগ তোলে নয়ন তারার পিতা হক্কা মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে ভূমিকা রাখে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইসমাইল কলোনী এলাকার বাগান থেকে এক ট্রাক মানুষের হাড় গোড় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই নারকীয় তান্ডবের কথা এখনো স্মৃতিচারণ করে মানুষের চোখ বেয়ে স্বজনের জন্য চোখ ভিজে যায়। তবে ১৯৭১ এর মানবতা হত্যাকারী সেই সব হায়েনা এখনো থামেনি। তাদের সন্তানরা এখন বাঙালির সম্পদ দখলে উঠেপড়ে লেগেছে। ভূমি অফিসের কোন কর্তা হাত করে প্রতারণা নাম পত্তনের মাধ্যমে ৭১ এর লোমহর্ষক বাঙালি নির্যাতনের খলনায়ক সেলিমের ছেলে শামীম ও নাঈম এখনো নয়ন তারার বাড়ি দখলে নিতে জাল কাগজ পত্র তৈরি করছে। বাড়িটি যশোর শহরের রায়পাড়া ইসমাইল কলোনীর প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ছোটকালে পিতা হারানোয় লেখাপড়া হয়নি নয়ন তারার। তাদেরকে যশোর জেলা প্রশাসন একটু জমি বরাদ্দ দেয় মাথা গোঁজার ঠাই হিসাবে। সেই জমিটি হাতে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে ঐ চক্র। জাল নাম পত্তনের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা দিয়ে জমি পেতে চায় ঐ চক্রটির সদস্যরা। পাশের অসহায় খোদেজার জমিতেও তাদের লোভ। এক চরম ক্ষতির আতঙ্কে অসহায় খোদেজার সন্তানরা স্বপরিবারে দিশেহারা বোধ করছে। কেননা ঐ জমিলোভী চক্রটির সদস্যরা আগে আওয়ামীলীগ নেতাদের লোক হিসাবে চিহ্নিত থাকলেও এখন কেউ জামায়াত বা কেউ বিএনপিতে ভেড়ার চেষ্টা করছে। স্বার্থ হাসিলের জন্য এরা সদা সরকারি দলের ছায়ায় ভিড়ে যায়।
