ভেনেজুয়েলায় জোড়া প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১,৫০০ ছুঁইছুঁই; ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধারযুদ্ধ
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #AmuayRefinery, #BangladeshNews, #DisasterRelief2026, #LaGuaira, #VenezuelaEarthquakeভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ও ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা৷ দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে গত বুধবারের ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১ হাজার ৫০০ জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে৷ মাঝে মাঝে অলৌকিকভাবে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে জীবনের সন্ধান মেলায় উদ্ধারকারীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় বাড়ছে লাশের মিছিল৷
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যে ইতোমধ্যেই ২ হাজার ৬০০-এরও বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী এসে পৌঁছেছেন৷ কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই উপকূলীয় রাজ্যে অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে বালু ও ধ্বংসস্তূপের স্তূপে পরিণত হয়েছে৷
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা: ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ একটি বিশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমকে বলেন— “উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে৷ গতকাল রোববারও আমরা বেশ কয়েকজন জীবিত মানুষকে উদ্ধার করেছি, তাই অভিযান স্থগিত করার কোনো প্রশ্নই আসে না৷ আমরা সবসময় আশা বজায় রাখছি৷” এই নবগঠিত কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করবে৷ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে রদ্রিগেজ জানান— স্কুলগুলোর ক্লাস আরও এক সপ্তাহ স্থগিত থাকবে এবং লা গুয়াইরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে৷ গত জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পূর্বসূরি অপসারিত হওয়ার পর থেকে রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের ভাই এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান— গতকাল নিহতের সংখ্যা আরও ২০ জন বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ জনে দাঁড়িয়েছে৷ ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন, ১২ হাজার ৭২১ জন মানুষ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৭৭৪টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে৷ বিরোধীদলীয় একটি ওয়েবসাইটের দাবি অনুযায়ী— নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার, যদিও সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি৷
৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন ও অলৌকিক উদ্ধার: ইউএস জিওলোজিক্যাল সার্ভে (USGS) অনুমান করেছে— এই ভয়াবহ দুর্যোগে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে, যা হলে এটি হবে গত শতাব্দীর লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্প৷ সুইস উদ্ধারকারী দলের নেতা সেবাস্তিয়ান ইউগস্টার বলেন— “সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রায় তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার একটি গোল্ডেন টাইম থাকে, যার পরে মানুষকে জীবিত বাঁচানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে৷” শনিবার সন্ধ্যায় সেই ৭২ ঘণ্টা পূর্ণ হলেও অলৌকিকভাবে মিলছে প্রাণ৷
রোববার ধসে পড়া ভবনের নিচে প্রায় ৩ মিটার গভীর থেকে মোইসেস নামের ১১ বছর বয়সি এক ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কলম্বিয়ান উদ্ধারকারী দল৷ ভাঙা হাত নিয়ে স্ট্রেচারে করে তাকে বের করে আনা হয়, তবে এই ঘটনায় তার মা ও বোন মারা গেছেন৷ মেক্সিকান উদ্ধারকারীরাও কারাবালেদা শহরে ধসে পড়া ভবন থেকে একই বয়সী আরেকটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দলও বেশ কিছু শিশুকে উদ্ধার করেছে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে৷
রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ধাক্কা: এই চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে৷ বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো দেশে ফেরার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের অসন্তুষ্ট করছে৷ এদিকে ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জেরে ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্যালকন রাজ্যে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার ‘আমোয়াই’ (Amuay) তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে৷ দৈনিক ৬ লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই শোধনাগারটি বন্ধ হওয়ায় দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা৷
সূত্র: রয়টার্স
