ভোটের মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভোটারদের মন পেতে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি খুলে গেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন এলাকার সংসদীয় আসনগুলোতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা থেকে শুরু করে গ্যাস, পানি ও যানজট—সব নাগরিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা। তবে প্রশ্ন উঠছে, একজন সংসদ সদস্যের হাতে আসলে এসব সমস্যার সমাধানের কতটা ক্ষমতা রয়েছে?
ঢাকায় নাগরিক দুর্ভোগের শেষ নেই। গ্যাস সংকট, পানিতে ময়লা, তীব্র যানজট—সব মিলিয়ে নগর জীবন জটিল। এই বাস্তবতার মধ্যেই এবারের নির্বাচন ভিন্ন এক আবহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে সংসদীয় ৩২টি আসন, এর মধ্যে ঢাকায় ১৫টি। ভোট পেতে শহরের অলিগলিতে এখন প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি। প্রার্থীরা ভোটারদের আঙিনা-উঠোনে গিয়ে সব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিক সেবার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বহু সংস্থা। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ৫০টির মতো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সেবা পরিচালনা করে। এসব সংস্থার হাতেই মূলত শহরের নিয়ন্ত্রণ। ফলে এমপি প্রার্থীরা যে অঙ্গীকার করছেন, সেগুলোর বাস্তবায়ন আদৌ কতটা সম্ভব—সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল হক বলেন, ভোটের রাজনীতিতে অনেকেই সম্ভব ও অসম্ভব—সব ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। সিটি করপোরেশন এলাকায় সংসদ সদস্যদের ক্ষমতার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যাগুলো খুবই প্রকট। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে কাজ আদায় করে নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিটি করপোরেশন এলাকায় সেবা সমন্বয় ছাড়া এমপিদের খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। তবে তারা নীতি ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবা পাওয়ার পথ সুগম করতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ শাহান বলেন, অনেক এমপিরই কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে না। ফলে তারা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছরেও সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেন না। এমপিদের মূল দায়িত্ব নীতিগত ও আইন প্রণয়নের পর্যায়ে।
নগরবিদরা বলছেন, প্রার্থীরা কীভাবে সব সংকটের সমাধান করবেন—ভোটারদের সেই প্রশ্ন তোলা এখন সময়ের দাবি।
