মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা বিশ্ববাজারে: স্বর্ণ ও রুপার বাজারে বড় দরপতন
Featured, Gold, Latest, News, Politics, Popular, Silver, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #GlobalEconomyNews, #GoldPriceDrop2026, #MiddleEastConflict, #USFedRateHikeমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত ও হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক কমোডিটি মার্কেটে (Commodity Market) বড় ধরনের ওলটপালট শুরু হয়েছে৷ মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি কমার ইতিবাচক আশা পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে৷ তেলের দাম বাড়তে থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (Fed) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আবার বাড়াতে পারে— এমন প্রবল আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের উদ্বেগে পড়ে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদ বিক্রি শুরু করেছেন, যার সরাসরি প্রভাবে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন ঘটেছে৷
স্বর্ণের স্পট মার্কেট ও ফিউচার্সের সর্বশেষ দর: আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে স্পট মার্কেটে (Spot Market) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৪ দশমিক ৪২ ডলারে৷ একই সময়ে আগামী আগস্ট মাসে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার্সের (Gold Futures) দাম ০.৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে৷ আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইন্ডাসইন্ড সিকিউরিটিজের (IndusInd Securities) জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জিগার ত্রিবেদী এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন— ‘মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক ক্রুড অয়েলের দাম দ্রুত গতিতে বাড়ছে৷ এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে যে উদ্বেগ সাময়িকভাবে কমেছিল, তা আবারও আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে৷’
যুদ্ধের প্রভাব ও তেলের বাজারের অস্থিরতা: উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালির সংকটের রেশ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুই দফায় বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে৷ পাশাপাশি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে কড়া মার্কিন নৌ অবরোধ আরোপ করায় সাগরে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং টানা চতুর্থ দিনের মতো তেলের দাম বাড়ছে৷ এর জবাবে ইরানও প্রতিবেশী ৩টি দেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং তেহরান এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছে৷
জিগার ত্রিবেদী আরও জানান— গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সাময়িক শান্তি চুক্তিটি কার্যত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে৷ ফলে জুন মাসের ভোক্তা ও উৎপাদক পর্যায়ের সরকারি মূল্যস্ফীতির তথ্যে সাম্প্রতিক এই সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব প্রতিফলিত হয়নি৷ যদিও জুন মাসে আমেরিকায় জ্বালানি পণ্যের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছিল, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই ইতিবাচক অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা৷
মার্কিন ফেডের সুদের হারের পূর্বাভাস ও লিসা কুকের বক্তব্য: মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও বৈশ্বিক আর্থিক বাজার এখনো চলতি বছরের শেষে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে— এমন সম্ভাবনাকে জোরালোভাবে বিবেচনায় রাখছে৷ শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের সিএমই ফেডওয়াচ টুলের (CME FedWatch Tool) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী— আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো আগামী ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭৩ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা স্বর্ণের দাম আরও কমার ইঙ্গিত দেয়৷
ফেডের অন্যতম শীর্ষ গভর্নর লিসা কুক বুধবার স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন— ‘আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি যদি খুব দ্রুত গতিতে কমতে শুরু না করে, তবে অর্থনৈতিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত৷’ অন্যদিকে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শও মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনার সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন৷ এই সংকটের মধ্যে ডালাস ফেডের প্রেসিডেন্ট লরি লোগান এবং ফেডের ভাইস চেয়ারম্যান ফিলিপ জেফারসনের পরবর্তী নীতিগত বক্তব্যের দিকে গভীর নজর রাখছেন বিশ্ব অর্থনৈতিক খাতের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা৷
রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামের চিত্র: বিশ্ববাজারে আজ স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ও অভিজাত ধাতুর দামেও বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে৷ স্পট মার্কেটে মূল্যবান রুপার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৪ ডলারে নেমে গেছে৷ এছাড়া ওরিয়েন্টাল মার্কেটে বিলাসবহুল প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৬৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৩০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে৷
