মৃত্যুর পরও রেহাই নেই! ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার জন্য জানাজায় বাধা দিলেন বিএনপি নেতা
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #NarayanganjNews, #Sonargaonনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে এক মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দাবি করা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে অবশেষে ওই ব্যক্তির জানাজা সম্পন্ন হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত গোলজার হোসেন উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদুল আজহার দিন (২৮ মে) দুপুরে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে গোলজার হোসেনের জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য তাঁর মরদেহ মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। ওই সময় উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মৃতের কাছে তাঁর ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি তোলেন। টাকা পরিশোধ করার আগে জানাজা সম্পন্ন করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি জানাজা ও দাফন কাজে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে মৃতের স্বজনরা সেই পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে ওই বিএনপি নেতা জানাজা সম্পন্ন করার অনুমতি দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য: ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হজরত মিয়া বলেন, “জানাজায় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ভরা মজলিশে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও ভাতিজা সাইফুল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। সুমন নামের আরেক ভাগিনার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি।
জানাজা আটকানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা সায়েম প্রধান বলেন, “গোলজার হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল এবং তাঁর কাছে আমি ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা ছিলাম। ওই টাকার জন্য বহুবার তাগাদা দেওয়া হলেও আমি তা পাইনি। তবে টাকার জন্য জানাজা আটকিয়েছি বিষয়টি তেমন নয়, বরং একটা সমাধানের জন্যই ঘটনাটি ঘটেছে। একপর্যায়ে মৃতের পরিবারের সদস্যরা আগামী রোববার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বিষয়টির সমাধান হয়েছে।”
এই বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, “বিষয়টি আমাদের কেউ অবগতির জন্য জানাননি। যদি আমাদেরকে এই ব্যাপারে জানানো হতো, তাহলে অবশ্যই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত।”
