মেক্সিকোর মাঠে ইংল্যান্ডের জয়
Entertainment, Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #EnglandVsMexico, #HarryKane, #JordanPickford, #JudeBellingham, #WorldCup2026মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের ১ লাখ দর্শকের গগনবিদারী গর্জন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার কঠিন পরীক্ষা আর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ— সব বাধা বীরত্বের সাথে পেরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড৷ নাটকীয় ও রুদ্ধশ্বাস শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে থমাস টুখেলের দল৷ বিশ্বমঞ্চের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের রানিং প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে বিদায় করা শক্তিশালী নরওয়ে৷
বেলিংহ্যামের ৯৮ সেকেন্ডের ঝড় ও পিকফোর্ডের প্রাচীর: মেক্সিকো সিটিতে প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর শুরু হয় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি৷ বিরূপ আবহাওয়ার সেই নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ম্যাচ শুরুর পর থেকেই চরম আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড৷ আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষ দিকে৷ মাঠের মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে চোখধাঁধানো জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে চালকের আসনে নিয়ে যান জুড বেলিংহ্যাম৷ প্রথমে দুর্দান্ত এক হেড এবং ঠিক তার পরেই কাছ থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে অ্যাজটেকার গ্যালারি মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার৷
তবে স্বাগতিক মেক্সিকো লড়াই ছেড়ে দেয়নি৷ বিরতির ঠিক তিন মিনিট আগে হুলিয়ান কুইনোনেস এক শক্তিশালী শটে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরান মেক্সিকোকে৷ এর আগেই অবশ্য রাউল হিমেনেসের দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ইংল্যান্ডের প্রাচীর গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড৷ প্রথমার্ধের সেই দুর্দান্ত সেভগুলোই ইংল্যান্ডকে ম্যাচের কঠিন সময়জুড়ে এগিয়ে রেখেছিল৷
লাল কার্ডের ধাক্কা ও কেইনের নাটকীয়তা: দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই বড় ধাক্কা খায় থ্রি লায়ন্সরা৷ মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহ৷ ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অ্যাজটেকার গ্যালারি যেন ইংল্যান্ডের জন্য আরও ভয়ংকর ও উত্তাল হয়ে ওঠে৷ কিন্তু সেই স্নায়ুচাপের মধ্যেই নিজের রানিং অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন ইংল্যান্ডের বিশ্বস্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইন৷
উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনকে ডি-বক্সে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড৷ স্পট কিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে আবারও দলকে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে নেন কেইন৷ কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি৷ এর কিছুক্ষণ পর নিজের ডি-বক্সে ফাউল করে বসে মেক্সিকোকে পেনাল্টি উপহার দেন খোদ হ্যারি কেইন৷ স্পট-কিক থেকে মেক্সিকান তারকা রাউল হিমেনেস গোল করলে ব্যবধান নেমে আসে ৩-২ গোলে, আর ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে দুই দলের মাঝে রীতিমতো রুদ্ধশ্বাস ও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়৷
পাঁচ ডিফেন্ডারের ছক ও টুখেলের মাস্টারক্লাস: ম্যাচের শেষ দিকে মেক্সিকোর আক্রমণভাগের চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে দ্রুত নিজের ট্যাকটিক্যাল কৌশল বদলান মাস্টারমাইন্ড কোচ থমাস টুখেল৷ তিনি মাঠ থেকে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় তুলে ড্যান বার্ন ও জেড স্পেন্সকে নামিয়ে পাঁচজনের নিরেট রক্ষণভাগ সাজান৷ ম্যাচের সাথে যোগ করা অতিরিক্ত ১১ মিনিটে একের পর এক অল-আউট আক্রমণ চালিয়েও ইংল্যান্ডের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি মেক্সিকো৷ পিকফোর্ডের বিশ্বস্ত গ্লাভস, রক্ষণভাগের আত্মত্যাগ আর ১০ জন ইংলিশ সেনার মানসিক দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে বহু প্রতীক্ষিত এই ঐতিহাসিক জয়৷
অ্যাজটেকার মতো প্রতিকূল কন্ডিশন ও বৈরী পরিবেশে এই জয়কে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ফুটবল সাফল্য হিসেবে দেখছেন ফুটবল সমর্থকরা৷ দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি সফলভাবে উতরে গেছে টুখেলের দল৷ এখন তাদের সামনে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে বধ করার নতুন রানিং লক্ষ্য৷
