মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে:
Entertainment, Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending, Weather #abongtv, #BangladeshNews, #DhalaiRiver, #FlashFlood2026, #FloodUpdateBD, #HeavyRainMoulvibazar, #MonuRiver, #MoulvibazarFloodটানা কয়েক দিনের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও মুষলধারে ভারী বর্ষণের কারণে মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে৷ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় সব কটি প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে৷ এরই মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে৷ বিশেষ করে ধলাই নদীর ইসলামপুর এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় অন্তত ৪ থেকে ৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার অসহায় মানুষ৷
রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া অফিসের রানিং পূর্বাভাস: স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী— গত বুধবার (৮ জুলাই) থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে৷ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারে মোট ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে৷ গতকাল বুধবার দিনভর জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল৷ দিনের কিছু সময় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর তা আবার প্রবল বেগে বাড়তে শুরু করে৷ রাতে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমলেও শেষ রাতের দিকে ফের তা তাণ্ডব শুরু করে৷ আজ বৃহস্পতিবার সকালেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং জেলার আকাশ সম্পূর্ণ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে৷ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে— মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় আজ দিনের বাকি সময়েও এই বৃষ্টিপাত অবিরাম রানিং থাকতে পারে৷
নদ-নদীর রানিং পানির স্তর ও বাঁধ ভাঙন: মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আজ দুপুরে জানিয়েছে— জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করে সংকেত সীমা পার করেছে৷ মনু নদীর রেলওয়ে পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে৷ অন্যদিকে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে মনু নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে৷ ধলাই নদীর পানি ইসলামপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এই তীব্র স্রোতের কারণেই ইসলামপুরের বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে৷ এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তা দ্রুত রানিং গতিতে বাড়ছে৷
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন— “টানা অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীগুলোতে পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে৷ মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং ধলাই নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে, যা নিম্নাঞ্চলকে প্লাবিত করছে৷ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ঢল আসা এভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও চরম অবনতি হওয়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে৷” পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবোর বিশেষ দল ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার রানিং প্রস্তুতি নিচ্ছে৷
