রৌমারী ভূমি অফিসে লঙ্কাকাণ্ড: শুনানির আগেই বিবাদীর বিপক্ষে রায়, কাঠগড়ায় এসিল্যান্ড ও কর্মচারীরা
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #এসিল্যান্ড, #কুড়িগ্রাম, #ঘুষেরঅভিযোগ, #দুর্নীতি, #ভূমিঅফিস, #রৌমারীবৈধ কাগজপত্র এবং আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের ঘুষ না দেওয়ায় প্রতিপক্ষের পক্ষে ‘মিসকেস’-এর রায় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। নোটিশ গোপন এবং শুনানির ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। এই অনিয়মের প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে গত রোববার (১০ মে) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জমির উদ্দিন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামের আব্দুল হামিদের ওয়ারিশগণ পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। এসএ রেকর্ডে ত্রুটি হওয়ায় ১৯৮৪ সালে তারা রৌমারী সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। ১৯৮৫ সালে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন এবং সেই রায়ের ভিত্তিতে নামজারি (মিউটেশন) করে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছিলেন তারা। কিন্তু সম্প্রতি নাগেশ্বরী উপজেলার আব্দুল হাই ও বাগুয়ারচর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ওই নামজারি বাতিলের জন্য ভূমি অফিসে দুটি মিসকেস আবেদন করেন।
ভুক্তভোগী জমির উদ্দিনের অভিযোগ, গত ১৮ মার্চ মামলার শুনানির তারিখ জানতে তিনি ভূমি অফিসে গেলে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান তাকে অফিসের প্রধান সহকারী তপন কুমার ও চেইনম্যান এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর তপন ও এনামুল শুনানির তারিখ ৬ মে নির্ধারণ হয়েছে জানিয়ে রায়ের বিনিময়ে ‘খরচাপাতি’ হিসেবে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এই ঘুষ দাবির সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জমির উদ্দিন আরও জানান, ৬ মে শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যোগসাজশ করে বিবাদী পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই গত ২৬ এপ্রিল তাদের বিপক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ের কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে—বিবাদীপক্ষ হাজির ছিলেন এবং তাদের কাগজপত্র ভুয়া। অথচ ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা হাজির হওয়ার সুযোগই পাননি এবং আদালতের বৈধ রায় থাকা সত্ত্বেও সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ের কপি নিয়ে এসিল্যান্ডের কাছে গেলে তিনি দায়সারাভাবে আপিল করার পরামর্শ দেন।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খোদ সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই এখন প্রকাশ্যে ঘুষ দাবি করছেন। আমার সামনেই অফিসের লোকজন ভুক্তভোগীর কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করেছে। তারা সরাসরি জানায়, ওই টাকা দিলেই রায় পক্ষে যাবে।”
ভূমি অফিসের এই সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রৌমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কলেজ প্রভাষক আবুল হাসেম। তিনি বলেন, “সরকারের স্বার্থ ছাড়া জনগণের স্বার্থ দেখেন না এই এসিল্যান্ড। প্রশাসন নাকের ডগায় এসব দেখলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।”
ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অফিসের চেইনম্যান এনামুল হক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। প্রধান সহকারী তপন কুমার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এসিল্যান্ড ও চেইনম্যান ঘুষ নিয়েছেন কি-না তা আমার জানা নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, “আমি নথিপত্রে যা পেয়েছি, সেই অনুযায়ী রায় দিয়েছি। রায় পছন্দ না হলে তারা রিভিউ করতে পারেন। ঘুষ নেওয়া হয়নি, তাদের পক্ষে রায় না দেওয়ায় তারা মিথ্যা বলছেন।”
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
