লাফিয়ে বাড়ল বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম, দেশে আরও বাড়ার শঙ্কা
News abongnews, business, Gold, sharemarket, topnewsবিশ্ববাজারে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে স্বর্ণ। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭২৬ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছায়। দিনের একপর্যায়ে দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৩৭ দশমিক ১০ ডলারে ওঠে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৩২ দশমিক ৬০ ডলারে।
এদিকে রুপার দামও বাড়তির দিকে। স্পট মার্কেটে রুপা ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯৫ দশমিক ৩০৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের সর্বোচ্চ দামের খুব কাছাকাছি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা স্বর্ণের দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমতে পারে—এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, বাণিজ্য উত্তেজনা, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও সুদের হার কমার সম্ভাবনা মিলেই স্বর্ণের দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার মতে, পরিস্থিতি এমন থাকলে স্বর্ণের দাম ভবিষ্যতে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারও ছুঁতে পারে।
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ২০ দিনেই স্বর্ণের দাম প্রায় ৯.৬ শতাংশ বেড়েছে। আর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে এক বছরে দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা এবং ইটিএফে বিনিয়োগ প্রবাহও এই উত্থানে ভূমিকা রাখছে।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়। ফলে শিগগিরই দেশে আবারও দাম বাড়তে পারে।
সবশেষ ১৯ জানুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ায়। বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।
অন্যদিকে রুপার বাজারেও বড় উত্থান দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে রুপার দাম বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দাম বেড়েছে প্রায় ৩৩.৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রুপাকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বাজারে সরবরাহ ঘাটতি এই বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে।
এ ছাড়া বিশ্ববাজারে প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৩২ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০.৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৫৮ দশমিক ৯১ ডলার।
