শরীয়তপুর শহরের প্রেমতলা এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ঢাকা-শরীয়তপুর প্রধান সড়কে এই মিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলের ভিডিও এবং ফেসবুক লাইভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দলীয় ব্যানার ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে একদল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে হঠাৎ মিছিল বের করেন। মিছিল চলাকালে দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) সেলিম শেখকে এই ঝটিকা মিছিলে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়।

মিছিল চলাকালীন ইউপি সদস্য সেলিম শেখ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পুরো ঘটনাটি সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করেন। এ সময় লাইভে দেখা যায়, মিছিল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত দেশে প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের নামেও বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

মিছিল ও ফেসবুক লাইভের পর থেকে ইউপি সদস্য সেলিম শেখ গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনে খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা মিছিলে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় আমাদের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। এর প্রতিবাদ এবং দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আমরা মাঠ পর্যায়ে রয়েছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

নিষিদ্ধ সংগঠনের এই প্রকাশ্য তৎপরতার বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের ব্যানার নিয়ে মিছিল হয়েছে এমন তথ্য আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বা আগে থেকে ছিল না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। তদন্তে আইনবহির্ভূত কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *