শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে গর্বিত: সংসদে ডা. শফিকুর রহমান
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNewsস্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও জনগণের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর আনা জনগুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমিও একটি ক্ষুদ্র শহীদ পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পরিবার কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে শহীদদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের।”
বিরোধীদলীয় নেতা আক্ষেপ করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও বারবার মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে। তিনি ১৯৭৫ সালের বাকশাল গঠনের সমালোচনা করে বলেন, “যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুযোগে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারাই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন।” বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, ২ হাজার ৬৬২ জন মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন এবং ২৩৫ জন এখনো গুম রয়েছেন।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে জামায়াত আমির বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই মাসে তরুণ-যুব সমাজের হাত ধরে যে আন্দোলন দানা বেঁধেছিল, ৫ আগস্ট তা পূর্ণতা পেয়েছে। এ কারণেই আমাদের দেশের ক্যালেন্ডারে ‘৩৬ জুলাই’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি এই আন্দোলনে শহীদ হওয়া চার বছরের শিশু থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, দেশ এখন ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং কোনো ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাব এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।
