দেশজুড়ে শিশুদের মাঝে মরণঘাতী হাম (Measles) এবং হামের তীব্র উপসর্গের প্রাদুর্ভাব চরম উদ্বেগজনক ও বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে৷ গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই ভাইরাসের থাবায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ একই সময়ে নতুন করে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ১০৭টি শিশু৷

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ হামবিষয়ক সেল থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক হালনাগাদ ও পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এই ভয়ংকর চিত্র নিশ্চিত করা হয়েছে৷

২৪ ঘণ্টার মৃত্যুর ধরণ ও আক্রান্তের গ্রাফ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যে ৫টি শিশু মারা গেছে, তাদের প্রত্যেকেই হামের তীব্র জটিল উপসর্গ (যেমন— প্রচণ্ড জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট) নিয়ে ভর্তি ছিল৷ তবে এই নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি টেস্ট বা রক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি৷ মৃত ৫ জনই সম্ভাব্য হামের জটিলতায় মারা গেছে৷ একই সাথে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১০৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় দেশের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে বেড ও সুচিকিৎসার সংকট রানিং গতিতে তীব্র হচ্ছে৷

সাড়ে তিন মাসের ভয়ংকর পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ডাটা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে— গত প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে বাংলাদেশে হামের এই প্রকোপ মহামারি তুল্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে৷ গত ১৫ই মার্চ থেকে শুরু করে আজ ৩রা জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৭২৯টি শিশুর মৃত্যুর খতিয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে৷

সরকারি এই পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়েছে— মোট মৃত্যুর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম পজিটিভ বা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ জন শিশু৷ আর বাকি সিংহভাগ অর্থাৎ ৬৩৬টি শিশু মারা গেছে ল্যাব পরীক্ষার আগেই হামের তীব্র উপসর্গ ও পরবর্তী নিউমোনিয়া বা মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরের মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে৷

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন— শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) কোনো ধরণের গাফিলতি বা করোনা পরবর্তী সময়ে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রাজধানীসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে রানিং গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখা এবং পুষ্টিকর তরল খাবারসহ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা৷

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *