সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ,পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #AntiCorruptionCommissionBD, #BangladeshNews, #DhakaSpecialJudgeCourt, #IGPBenazirWealthScam, BenazirAhmedCorruptionCase2026জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও এক জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছেন আদালত৷ এর মাধ্যমে মামলাটির মোট ২৮ জন তালিকাভুক্ত সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো৷ আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের এজলাসে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়৷ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্যানেল আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আবং টিভিকে এই বিচারিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷
আদালতের কার্যক্রম ও সাক্ষীর জবানবন্দি: আদালত সূত্রে জানা গেছে— আজ বৃহস্পতিবার শুনানির নির্ধারিত দিনে ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে বিটিএমসি বস্ত্র অধিদপ্তর (কারিগরি) শাখার সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির মামলার বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি প্রদান করেন৷ আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন৷ তবে মামলার মূল আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই সপরিবারে আত্মগোপনে বা পলাতক থাকায়, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দ্বারা ওই সাক্ষীকে জেরা করা সম্ভব হয়নি৷ সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের বিচারক আগামী ১৭ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন৷
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন৷ দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম৷ এরপর চলতি বছরের ৮ মার্চ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং গত ৩ মে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়৷
চার্জশিটে ১১ কোটির অবৈধ সম্পদের খতিয়ান: আদালতে দাখিল করা দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে৷ মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে— বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে স্পষ্ট করে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ हजार ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের অফিশিয়াল ঘোষণা দিয়েছিলেন৷
তবে দুদকের গভীর তদন্তে দেখা যায়, তাঁর এই ঘোষণার বাইরেও নামে-বেনামে আরও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে৷ তদন্তে তাঁর নামে প্রকৃতপক্ষে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়৷ অর্থাৎ দুদকের জালে বেনজীর আহমেদের সর্বমোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার অঢেল সম্পদের সন্ধান মিলেছে৷
তদন্তে সাবেক এই আইজিপির বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে মাত্র ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা পাওয়া গেছে, যা থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বাদে তাঁর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি Cavendish ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা৷ ফলে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বেনজীর আহমেদ তাঁর দৃশ্যমান বৈধ আয়ের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার বিপুল সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন৷ শুধু তাই নয়, বেনজীর আহমেদ তাঁর এই কালো টাকার অবৈধ উৎস, প্রকৃতি, অবস্থান ও মালিকানা সম্পূর্ণ গোপন করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত করেছেন৷ আদালতের পরবর্তী শুনানিতে আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে৷
