সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি মামলায় আরও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামি পলাতক
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #AntiCorruptionBD, #BangladeshNews, #BenazirAhmedCaseজ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতে আরও ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে৷ এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ২৮ জন তালিকাভুক্ত সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন হলো৷
আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষীরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাদের জবানবন্দি প্রদান করেন৷ তবে মামলার প্রধান আসামি বেনজীর আহমেদ শুরু থেকেই পলাতক থাকায় আদালতে আজ উপস্থিত সাক্ষীদের জেরা করা সম্ভব হয়নি৷
সাক্ষ্য দেওয়া ৬ কর্মকর্তা ও পরবর্তী শুনানি: আদালতে আজ দুদকের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া ছয়জন কর্মকর্তা হলেন— নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলার চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম এবং বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম৷
আজকের সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে আদালত আগামী ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন৷ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷ এর আগে গত ৮ মার্চ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে গত ৩ মে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত৷
চার্জশিটে ১১ কোটির অবৈধ সম্পদের লোহমর্ষক খতিয়ান: ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন৷ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়৷
মামলার চূড়ান্ত চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে— বেনজীর আহমেদ দুদকের কাছে দাখিল করা তাঁর প্রাথমিক সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ furrow ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের লিখিত ঘোষণা দিয়েছিলেন৷ তবে দুদকের দীর্ঘ তদন্তে তাঁর নামে প্রকৃতপক্ষে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়৷ অর্থাৎ অনুসন্ধানে তাঁর মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ সম্পদের হদিস মেলে৷
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়— বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে মাত্র ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২…৬৬৮ টাকা পাওয়া গেছে৷ আইনসম্মত পারিবারিক ব্যয় বাদে তাঁর নিট প্রকৃত সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি client ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা৷ ফলে সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩…৫৭৬ টাকার বিশাল সম্পদ অর্জন করেন৷ একই সাথে বেনজীর আহমেদ এই বিশাল অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করার অসৎ উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে তা বিনিয়োগ, রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন, যা প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ৷
