সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির নির্দেশ
Entertainment, Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #SalmanShah, #SalmanShahDeathMysteryনব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় ও আইকনিক চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে এক নজিরবিহীন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ মৃত্যুর দীর্ঘ ২৮ বছর পর আদালতের কঠোর নির্দেশনায় সিলেট থেকে তাঁর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের রানিং প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে৷ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী— কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন কার্যক্রমের সার্বিক তদারকির বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজকে৷ গতকাল রোববার (৫ জুলাই) এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের অফিশিয়াল অনুলিপি সিলেটে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম৷
সিআইডির আবেদন ও আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশ: এর আগে গত ২০ মে এই হাই-প্রোফাইল মামলার নতুন তদন্তকারী সংস্থা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে লিখিত আবেদন করেন৷ পরবর্তীতে ২৪ মে আদালত সেই আবেদনটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে মঞ্জুর করেন এবং একজন দক্ষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল ও পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য সিলেটের প্রশাসনকে নির্দেশ দেন৷
এরই মধ্যে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম দেহাবশেষ উত্তোলনের এই আইনি অনুমতি বাতিলের জন্য আদালতে একটি রিভিউ আবেদন করলেও বিজ্ঞ আদালত তা কেবল নথিভুক্ত করে পূর্বের কবর উত্তোলনের আদেশটিই রানিং বহাল রাখেন৷
তিন দশকের তদন্ত জট ও মায়ের লড়াই: ঢালিউডের ইতিহাসের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও সবচেয়ে আলোচিত এই মৃত্যুরহস্যের সূত্রপাত ঘটেছিল বিগত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর৷ সেদিন ঢাকার ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে সালমান শাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়৷ ঘটনার পর প্রথমে তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন৷ পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে সেটিকে সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়৷
গত প্রায় তিন দশকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও প্রতিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে৷ তবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই এই সব রানিং তদন্ত প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন এবং এটি সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড বলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন৷
সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে নতুন রানিং অ্যাকশন: সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত পূর্বের রিভিশন আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে মামলাটির সম্পূর্ণ নতুন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন৷ আদালত সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা ও আত্মহত্যার প্ররোচনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমলে নিয়ে রমনা মডেল থানাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন৷ দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত মৃত্যুরহস্যের প্রকৃত কারণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য উদঘাটন এবং তদন্তে আরও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই মূলত আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলন করে পুনরায় ফরেনসিক ময়নাতদন্তের এই চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সালমান ভক্তরা আশা করছেন— নতুন এই ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই ঐতিহাসিক মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত অগ্রগতি হতে পারে৷
