কক্সবাজার সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত জারি থাকার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে টানা ছয় দিন ধরে সমস্ত ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে৷ গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত এই রুটে কোনো ধরনের যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার চলাচল করতে পারেনি৷ এই দীর্ঘ নৌ অচলাবস্থার কারণে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের উভয় পাড়ে শত শত সাধারণ যাত্রী সম্পূর্ণ আটকা পড়েছেন এবং দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকটের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টেকনাফ সদরে আনা নিয়ে চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে৷
উভয় পাড়ে যাত্রী জট ও ট্রলার মালিকদের রানিং বক্তব্য: সেন্টমার্টিন রুটের নৌযানের প্রধান টিকিট বিক্রেতা ফারুক আহমেদ জানান— কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় এই নৌপথে যাত্রী পরিবহনসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে৷ আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে সমুদ্রের সতর্কসংকেত কেটে গেলে পুনরায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রানিং করা হবে৷
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান— এই নৌপথে তাদের সমিতির অধীনে নিবন্ধিত মোট ২৬টি যাত্রীবাহী ট্রলার নিয়মিত চলাচল করে৷ সাধারণ সময়ে দৈনিক রোটেশনের ভিত্তিতে যাত্রী সুবিধার্থে দুই থেকে তিনটি ট্রলার দ্বীপে যাতায়াত করে থাকে৷ কিন্তু সাগরের অবস্থা অত্যন্ত উত্তাল ও বৈরী হওয়ায় প্রশাসনের নির্দেশে গত ছয় দিন ধরে সেগুলোও সম্পূর্ণ রানিং বন্ধ রয়েছে৷
চিকিৎসা সংকট ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রানিং উদ্বেগ: নৌপথ বন্ধ থাকায় দ্বীপের ভেতরের দীর্ঘদিনের নাজুক ও চরম চিকিৎসাহীনতার চিত্র তুলে ধরে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন— “প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসের বর্ষা মৌসুমে সাগরে সংকেত থাকলে দ্বীপে এরকম ট্র্যাজিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়৷ এই বিপজ্জনক সময়ে দ্বীপের কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে টেকনাফে নেওয়ার উপায় থাকে না, ফলে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না৷” তিনি আরও জানান— দ্বীপে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আটকা পড়েছে, যাদের সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়া জরুরি৷ এই বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিশেষ আলোচনা হয়েছে৷ টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের (Coast Guard) একটি বড় আকারের শক্তিশালী ট্রলার অবস্থান করছে৷ ওই কোস্ট গার্ডের বড় ট্রলারটি যদি সেন্টমার্টিনে পাঠানো যায়, তবে সেটিতে করে বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে টেকনাফ মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার একটি রানিং প্রচেষ্টা ও আলোচনা চলছে৷
প্রশাসনের রানিং আশ্বস্ততা: সার্বিক সংকটের বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন— “বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন নৌপথে সাধারণ ট্রলার চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে৷ তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবস্থানরত ও আটকে পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে৷ সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা সবুজ সংকেত পাওয়া গেলেই পরীক্ষার্থীদের মূল ভূখণ্ডে নিরাপদে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় রানিং সিদ্ধান্ত ও বিশেষ নৌযানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷”
