আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে খুদে জাদুকর লিওনেল মেসির চোট নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, সেটি আপাতত অনেকটাই কেটে গেছে। ইন্টার মায়ামির বিশেষ মেডিকেল পরীক্ষায় আর্জেন্টাইন মহাতারকার গুরুতর কোনো ইনজুরি ধরা পড়েনি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মার্কিন ক্লাবটি। ফলে শিরোপা ধরে রাখার মহাযজ্ঞে নামার আগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিবির ও কোচ লিওনেল স্কালোনি।
এর আগে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে মেজর লিগ সকারের (MLS) ম্যাচে ৬-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের রাতে চোট পেয়েছিলেন মেসি। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে হঠাৎ বাঁ ঊরু চেপে ধরে তীব্র অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। কোনো ধরনের চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি লকার রুমে চলে যাওয়ায় আর্জেন্টিনা ও বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল।
সোমবার (২৫ মে) ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মেসির হ্যামস্ট্রিংয়ে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি বা টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। ক্লাবের মেডিকেল টিম জানিয়েছে, তাঁর বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে অতিরিক্ত চাপ এবং দীর্ঘ ফুটবল মৌসুমের কারণে পেশির ক্লান্তিজনিত (Muscle Fatigue) সমস্যা দেখা গেছে।
তবে মেসি ঠিক কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ ম্যাচে ফিরবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময়সীমা জানায়নি ইন্টার মায়ামি। ক্লাবটি উল্লেখ করেছে, দলের বিশেষ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় মেসির শারীরিক অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে তাঁর মাঠে ফেরার চূড়ান্ত সময়সূচি।
এদিকে বিশ্বস্ত ইতালিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মায়ামির অভ্যন্তরীণ মেডিকেল পরীক্ষায় এটি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মেসি কোনো বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েননি; কেবল সাময়িক পেশির ক্লান্তি ও অস্বস্তিতে ভুগছেন। বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে থাকা নিয়ে তাঁর কোনো ঝুঁকি নেই।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক আসর ২০২৬ বিশ্বকাপ। এর ঠিক পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বখেতাব ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা। তার আগেই কোচ লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। দলের অধিনায়ক ও প্রধান চালিকাশক্তি লিওনেল মেসি বড় চোট থেকে বেঁচে যাওয়ায় আর্জেন্টিনা দল এখন পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে।
