পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান ঈদের জামাত আয়োজনের লক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের এই প্রধান জামাতে সর্বস্তরের জনগণের সাথে অংশ নেবেন।
গতকাল সোমবার (২৫ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায়কে আরামদায়ক করতে ব্যাপক আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মোট ক্ষেত্রফল প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে ঈদের মূল প্যান্ডেলের ক্ষেত্রফল ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। প্যান্ডেলের নিচে মোট ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের (ভিআইপি) জন্য পুরুষ ২৫০ জন এবং নারী ৮০ জনের বিশেষ আসন রাখা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং পৃথক জোনে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২১টি কাতারের মধ্যে ভিআইপি পুরুষদের জন্য ৫টি ও নারীদের জন্য ১টি কাতার, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৬৫টি বড় আকারের কাতার এবং নারী মুসল্লিদের জন্য ৫০টি ছোট আকারের কাতার সুবিন্যস্ত করা হয়েছে।
ঈদগাহ ময়দানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রবেশের জন্য মোট ৪টি ফটকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ২টি এবং নারী মুসল্লিদের জন্য ১টি আলাদা প্রবেশ ফটক থাকবে। অন্যদিকে নামাজ শেষে দ্রুত বের হওয়ার জন্য মোট ৭টি বহির্গমন ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৫টি এবং নারীদের জন্য ১টি পৃথক বহির্গমন ফটক থাকবে। মাঠের উত্তর পাশে আধুনিক অজুখানায় একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লি অজু করতে পারবেন, যার মধ্যে পুরুষদের জন্য ১১৩ জন এবং নারীদের জন্য ২৭ জনের সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তীব্র গরম ও বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ঈদগাহ ময়দানে পর্যাপ্ত ফ্যান, আলোর ব্যবস্থা, নামাজের জন্য কার্পেট এবং ভিআইপি কাতারে জায়নামাজ সরবরাহ করা হবে। সাধারণ মুসল্লিদের তৃষ্ণা মেটাতে থাকবে নিরাপদ পানির ফিল্টার।
নামাজকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড রোধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা টিম, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, ভারী বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বৃষ্টির পানি নিরোধক আধুনিক সামিয়ানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লিদের স্বাগত জানাতে ঈদগাহের প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ৩টি তোরণ। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এখন কেবলই জামাতের অপেক্ষা।
