ফরিদপুরের সালথায় বাজিতে লুডু খেলা নিয়ে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর; আহত ৮

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাজিতে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের এই মারাত্মক সংঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত শনিবার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামাইদিয়া গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে কামাইদিয়া গ্রামের স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে কয়েকজন যুবক বাজিতে লুডু খেলছিলেন। খেলার একপর্যায়ে জয়-পরাজয় নির্ধারণ এবং বাজির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে খেলোয়ারদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও গালাগালি শুরু হয়। এই ঘটনার জের ধরে রাতেই উভয় পক্ষের লোকজন চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং রামদা, ঢাল, সড়কিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র সংঘাতের কারণে পুরো কামাইদিয়া গ্রাম এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে থাকেন। এই তাণ্ডব চলাকালীন সময়ে গ্রামে প্রতিপক্ষের অন্তত কয়েকটি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় মাতব্বর ইমারত মোল্যা এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন শাহজাহান মৃধা। দুপক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন গুরুতর জখম ও আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও, পরবর্তীতে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *