ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পাকিস্তানে ভয়াবহ মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে একদল উত্তেজিত বিক্ষোভকারী। হামলাকারীরা ভবনের জানালা ভাঙচুর করার পাশাপাশি সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
রোববার সকালে তেহরান থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পরপরই করাচির রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনিসহ প্রায় দুই শতাধিক ইরানি নাগরিক নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা করাচিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের বাধা উপেক্ষা করে তারা ভবনে পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ভবনের একাংশে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। আল জাজিরার ‘সানাদ’ ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট ভিডিওগুলো যাচাই করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার সময় দূতাবাসের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা আটকা পড়েছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় করাচি জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তানের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনার সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির মৃত্যু মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে ব্যাপক মার্কিনবিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরি করেছে। করাচির এই হামলা সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তান সরকার এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
