ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌযানের বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র মানবিক কর্মীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা এবার স্বাধীনভাবে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া৷ আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা বা ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটারে থাকা অবস্থায় ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলা, যৌন নিপীড়ন এবং শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে ক্যানবেরা এই তদন্ত চালাবে৷
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংস্থা ‘গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা আওটিয়ারোয়া-অস্ট্রেলিয়া’৷ সংগঠনটি জানায়, ‘অস্ট্রেলিয়ার সরকার ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলের অমানবিক হামলা, যৌন নিপীড়ন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের বিষয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করা হয়৷ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং, আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান আলি এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ও পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অত্যন্ত ‘উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের’ সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর ক্যানবেরা এই আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷
আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় চলাচল করার সময় অবৈধভাবে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া ফ্লোটিলা কর্মীদের প্রতি তেল আবিবের এমন অমানবিক আচরণের বিষয়ে ইউরোপের দুই দেশ ইতালি ও ফ্রান্স ইতোমধ্যে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে৷
এর মধ্যে ইতালির শুরু করা উচ্চপর্যায়ের এই তদন্তের আওতায় সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির৷ মূলত বেন গভির নিজেই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন, যেখানে দেখা যায়— ফ্লোটিলা কর্মীদের নির্মমভাবে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে এবং যে জাহাজে তাদের অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে জোরপূর্বক হাঁটু গেঁড়ে অত্যন্ত কষ্টদায়ক অবস্থানে বসিয়ে রাখা হয়েছে৷ এই ভিডিওটি সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার জেরে এবার অস্ট্রেলিয়াও এই ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তে যুক্ত হলো৷
সূত্র: আলজাজিরা
