ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে রাতের আঁধারে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ দুই পক্ষের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনায় সুমন শেখ (২৫) নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে৷ এই ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন৷
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে উপজেলার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামবাসীর মধ্যে এই সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ নিহত সুমন শেখ পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে৷ তিনি স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন৷
তুচ্ছ ঘটনা থেকে রণক্ষেত্র: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে— কয়েক দিন আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের কয়েক যুবকের দক্ষিণপাড়ের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও বিতর্ক হয়৷ এই ঘটনার জের ধরে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই যুবক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ পাড়ের বাসস্ট্যান্ডে প্রতিপক্ষ দ্বারা লাঞ্ছনার শিকার হন৷
এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টার দিকে পূর্ব হাসামদিয়ার গ্রামের শতাধিক যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দক্ষিণ পাড়ের বাসস্ট্যান্ড ব্রিজের ঢালুতে অবস্থান নেন৷ খবর পেয়ে ব্রিজের অপর প্রান্তে অবস্থান নেন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মারমুখী যুবকেরা৷ একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়৷ সংঘর্ষ চলাকালীন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের যুবকদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি করা হলে সুমন শেখসহ অন্তত তিনজন গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন৷ এই ঘটনার জেরে ভাঙ্গা-ফরিদপুর-বরিশাল-মাওয়া মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়৷
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টিয়ার শেল: খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে৷ তবে একপর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে ছোটেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজায়ন দিপু৷ তারা উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন৷
তবে পুলিশের আশ্বাসে কান না দিয়ে উত্তেজিত গ্রামবাসীর বিক্ষোভ ও হামলা আরো বাড়তে থাকে৷ পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে গভীর রাতে পরিস্থিতি শান্ত করে৷
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি: ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান— দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক গুলিবিদ্ধ যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে৷ বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে৷
