মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম কৌশলগত ও সংঘাতপূর্ণ জলসীমা হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকা থাইল্যান্ডের ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ১০টি জাহাজ অবশেষে নিরাপদে ওই অঞ্চল অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে৷ থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছে৷
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী— থাই পতাকাবাহী এবং থাই নৌ-অপারেটরদের দ্বারা চার্টার্ড (ভাড়া করা) এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই অঞ্চলে আকস্মিক সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল৷ দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে ১০টি জাহাজ নিরাপদ রুটে বের হয়ে আসতে পেরেছে৷
সামরিক সংঘাতের জেরে অবরুদ্ধ বাণিজ্য: চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগর সংলগ্ন জলসীমায় তীব্র সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে৷ সেই সময়ে থাইল্যান্ডের এই ১১টি পণ্যবাহী জাহাজ ওই সংঘাতপূর্ণ জোনের ভেতরে আটকা পড়ে এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোর চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়৷ দীর্ঘ ৪ মাস পর জলসীমার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা জোরদার করার পর জাহাজগুলো তাদের গন্তব্যে রওনা হওয়ার সবুজ সংকেত পায়৷
বাকি রয়েছে আর মাত্র একটি জাহাজ: থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে— তাদের ১১টি জাহাজের বহরের মধ্যে আর মাত্র একটি জাহাজ বর্তমানে ওই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রসীমায় অবস্থান করছে৷ তবে জাহাজটি কোনো আইনি জটিলতায় আটকে নেই৷ মূলত পণ্য বোঝাইয়ের (লোডিং) কাজ চলমান থাকায় সেটির যাত্রা কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে৷ থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে— পণ্য বোঝাইয়ের কাজ শেষ হওয়া মাত্রই আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই শেষ জাহাজটিও হরমুজ প্রণালী ত্যাগ করে সম্পূর্ণ নিরাপদ জলসীমায় চলে আসবে৷ এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে আন্তর্জাতিক থাই শিপিং কোম্পানি ও নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে৷
সূত্র: আল জাজিরা
