সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে কুশল রায় সরদার (১৩) নামে ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে৷ এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও নিহতের বাবা শিক্ষক কানাই লাল সরদার গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন৷
আজ বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে খুলনা-পাইকগাছা মহাসড়কের তালা সদর ইউনিয়নের শাহপুর বাজারে ব্র্যাক অফিসের সামনে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে৷
বৃষ্টির মধ্যে বাসচাপা ও ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি: পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে— নিহত কুশল রায় সরদার তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল৷ সে তালা উপজেলার নলতা গ্রামের বাসিন্দা এবং রথখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কানাই লাল সরদারের ছেলে৷ চাকরির সুবাদে কুশলের বাবা ও মা বর্তমানে ডুমুরিয়ার চুকনগরে বসবাস করেন এবং উভয়েই স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন৷
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর সবুর জানান— আজ সকালে চুকনগর থেকে মোটরসাইকেলযোগে ছেলে কুশলকে সাথে নিয়ে তালায় আসছিলেন শিক্ষক কানাই লাল সরদার৷ সকাল ৯টার দিকে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেলটি খুলনা-পাইকগাছা মহাসড়কের শাহপুর বাজার এলাকায় ব্র্যাক অফিসের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অর্থাৎ পাইকগাছা থেকে খুলনাগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস (রেজি. নং খুলনা জ-০৫-০০৪৯) মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দেয়৷ এতে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা কিশোর কুশল রায় বাসের ভারী চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়৷ এই সময় বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে তার বাবা কানাই লাল সরদার মাথায় ও শরীরে মারাত্মক চোট পেয়ে গুরুতর আহত হন৷
উদ্ধার অভিযান ও পুলিশের পদক্ষেপ: ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর শাহপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন৷ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত শিক্ষক কানাই লাল সরদারকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন৷ বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন সড়ক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান— খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং নিহত স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে৷ দুর্ঘটনার পর পরই চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও ঘাতক যাত্রীবাহী বাসটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে৷ এই ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক পরিবহন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে৷
